নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার হাশিমপুর এলাকায় মাদরাসা শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় শালিস-দরবারের অভিযোগ ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন জেলা বিএনপির সহকারী কোষাধ্যক্ষ ও রায়পুরা পৌরসভার দুই বারের সাবেক মেয়র হাজী আবদুল কুদ্দুস মিয়া।
অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনো ধরনের শালিস বা দরবারে অংশ নেননি। বরং শুরু থেকেই ঘটনাটিকে রাষ্ট্রীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি জানান, গত ২৪ এপ্রিল একটি অনুষ্ঠানে থাকা অবস্থায় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাকে একাধিকবার ফোন করে হাশিমপুর জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসায় উত্তেজিত জনতার ভাঙচুরের বিষয়টি অবহিত করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তার উপস্থিতি কামনা করেন। পরে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
সংবাদ সম্মেলনে আ. কুদ্দুস মিয়া বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, মাদরাসার এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বিষয়টি জানার পরপরই তিনি উপস্থিত সবাইকে স্পষ্টভাবে জানান, এটি কোনো সামাজিকভাবে মীমাংসার বিষয় নয়; বরং একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ দায়ের এবং আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তার ভাষায়, “আমি সেখানেই বলে দিয়েছি, এটা রাষ্ট্রীয় অপরাধ—এখানে কোনো দরবার চলবে না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।” পরে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে কেউ শালিস করেছে কি না বা কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না—সে বিষয়ে তার কোনো জ্ঞান বা সম্পৃক্ততা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. ফাইজুর রহমানও আ. কুদ্দুস মিয়ার পক্ষে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আ. কুদ্দুস একজন সৎ, জনদরদী ও জনপ্রিয় নেতা। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, “এলাকার মানুষ সমস্যার সমাধানের জন্য তাকে ডেকেছিল। কিন্তু অপরাধের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি নিজেই সরে দাঁড়ান এবং আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পরামর্শ দেন।”
উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল রায়পুরা উপজেলার হাশিমপুর এলাকার জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসায় প্রায় ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মাদরাসার শিক্ষক মো. জুনায়েদের বিরুদ্ধে রায়পুরা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় একটি মহলের বিরুদ্ধে শালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা এবং প্রায় ৩ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগে কয়েকজন স্থানীয় বিএনপি নেতার নাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যার মধ্যে আ. কুদ্দুস মিয়ার নামও উল্লেখ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে আ. কুদ্দুস মিয়া বলেন, “তথ্য যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো ঠিক নয়। এতে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি সঠিক তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি ষড়যন্ত্রকারী মহল তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

