মিজানুর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
“আয়শার খুনি গ্রেফতার করো’, ‘তুমি কে আমি কে আয়শা, আয়শা’, ‘আমার বোন কবরে, খুনি কেন বাহিরে’ এমন বুকভাঙা স্লোগানে ২৭ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে কুড়িগ্রামের চিলমারী। দুই বছর বয়সী শিশু আয়শা খাতুনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসী।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে জড়ো হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে। সেখানে তারা দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। শোকাহত জনতার কণ্ঠে একটাই সুর “আয়শার জন্য ন্যায়বিচার চাই”।
পরে বিক্ষোভকারীরা ইউএনও মো. মাহমুদুল হাসানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে মিছিল নিয়ে চিলমারী মডেল থানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
অভিযোগ ওঠে, ঘটনার পর দিন পার হলেও প্রকৃত খুনিরা এখনো গ্রেফতার হয়নি। এতে জনমনে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। পুলিশের দৃশ্যমান অগ্রগতি না দেখে বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলা পরিষদের সামনে সড়ক অবরোধ করে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। তবে বিচার দাবিতে আন্দোলনকারীরা অনড় থাকেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ঘটনাস্থলে এসে ইউএনও মাহমুদুল হাসান বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং পরে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
অবরোধ চলাকালে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল মতিন সরকার শিরিন। তিনি বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য লজ্জার। দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার করতে হবে, নইলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
নিহত আয়শার পিতা আলমগীর হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছোট মেয়েটাকে নির্মমভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমি আমার সন্তানের হত্যার বিচার চাই।
চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নয়ন কুমার জানান, পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আমাদের টিম কাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে বাড়ির পাশে খেলছিল দুই বছর বয়সী ছোট্ট আয়শা খাতুন। হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায় সে। দিনভর আশপাশের সব এলাকায় তল্লাশি করেন স্বজনরা। কোথাও মেলেনি শিশুটিকে। কিন্তু রাতে বাড়ির পাশেই পাওয়া যায় আয়শাকে। তবে তার শরীরে আর প্রাণ ছিল না; চোখ ছিল উপড়ে নেওয়া। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা শাহপাড়া এলাকায়।

