নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) তালাবদ্ধ, আর জীবন বাঁচাতে বেসরকারি ক্লিনিকের দিকে ছুটছেন গর্ভবতী মায়েরা—এমনই এক বাস্তবতা বিরাজ করছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায়। গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আধুনিক ওটি দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে আছে।
ফলে প্রায় ৯ বছর ধরে এখানে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে। এতে করে আশপাশের কয়েক লাখ মানুষ সরকারি এই জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ডেলিভারি) চালু থাকলেও জরুরি সিজারিয়ান সেবা বন্ধ রয়েছে।
অথচ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, আধুনিক অপারেশন থিয়েটার এবং অ্যানেস্থেসিয়া সুবিধা সবই রয়েছে। শুধুমাত্র একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে থমকে আছে পুরো সেবা কার্যক্রম।
এদিকে সরকারি সেবা বন্ধ থাকায় রাণীশংকৈল পৌর শহরের অন্তত ৭টি বেসরকারি ক্লিনিকেই এখন ভরসা খুঁজছেন রোগীরা।
এসব ক্লিনিকে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ গর্ভবতী মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন করা হচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত খরচের বোঝা বইতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি হাসপাতালে সবকিছু থাকা সত্ত্বেও যদি সিজার করা না যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য এটা খুবই কষ্টের।
বেসরকারি ক্লিনিকে অনেক বেশি টাকা লাগে। হাসপাতালের সেবা চালু হলে আমাদের মতো মানুষের বড় উপকার হতো।” স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ না থাকায় প্রসূতি সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি রোগীদের অন্যত্র পাঠাতে হচ্ছে, যা মা ও নবজাতকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফিরোজ আলম বলেন,
“অপারেশন থিয়েটার চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই রয়েছে। অ্যানেস্থেসিয়া সুবিধাও আছে। কিন্তু গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকায় নিয়মিত অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল আহামেদ বলেন,
“গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। দ্রুত জনবল নিয়োগ করা হলে ওটি চালু করা সম্ভব হবে। তখন সাধারণ মানুষ স্বল্প খরচে সরকারি সেবা পাবে।”
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটার চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমবে, অন্যদিকে মাতৃস্বাস্থ্য সেবার মানও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।

