নিজস্ব প্রতিবেদক, জাতিসংঘ সদরদপ্তর:
বৈশ্বিক এসডিজি (SDG) অর্থায়নের ঘাটতি মোকাবিলা এবং একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘ইকোসক ফাইন্যান্সিং ফর ডেভেলপমেন্ট ফোরাম ২০২৬’-এর সাধারণ বিতর্কে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এই আহ্বান জানান।
আলোচনায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, উন্নয়ন সহায়তা হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা এবং জ্বালানি খাতের অনিশ্চয়তাকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অগ্রগতির পথে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতিগত পরিসরকে ক্রমেই সংকুচিত করছে। এই প্রেক্ষাপটে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া যেন টেকসই ও মসৃণ হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, ব্যবসায়িক আস্থা পুনর্গঠন, ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সরাসরি সহায়তা সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে টেকসই উন্নয়নের জন্য ঋণের ব্যয় হ্রাস করা, অকার্যকর অবকাঠামো-সংক্রান্ত ঋণ পরিহার এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে উৎপাদনশীল ও কর্মসংস্থানমুখী খাতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, একটি অধিক প্রতিনিধিত্বশীল আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলা, জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং পাচার হওয়া সম্পদ যথাযথ মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

