রাজু মিয়া, লালমনিরহাট (কালীগঞ্জ)
লালমনিরহাটে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রতিদিন মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অধিকাংশ আরোহী তেল না পেয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। এই সংকটে ফুয়েল কার্ডধারী গ্রাহকরা চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, লাইনে থাকা শতকরা ৯০ ভাগ মোটরসাইকেলই রেজিস্ট্রেশনবিহীন। এসব অরেজিস্ট্রিকৃত মোটরসাইকেলের চাপে যারা আইন মেনে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করেছেন, তারা সময়মতো তেল কিনতে পারছেন না।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহল বলছেন, সংকট নিরসনে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের লাইসেন্স নম্বর রেজিস্টারে লিখে তেল দেওয়ার নিয়ম বাধ্যতামূলক করা উচিত। এরপর সেই তালিকা প্রশাসনের কাছে জমা দিলে সিন্ডিকেট বাণিজ্য রোধ করা সম্ভব হতো। এটি বাস্তবায়ন হলে একদিকে যেমন প্রশাসন তেলের সঠিক হিসাব পেত, অন্যদিকে অতিরিক্ত তেল কেনাও নিয়ন্ত্রণ করা যেত।
এদিকে কালীগঞ্জের চামটাহাট ফিলিং স্টেশনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে কোনো ট্যাগ অফিসার না থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মদাতী ইউনিয়ন যুবদলের কতিপয় নেতার নিয়ন্ত্রণে তালিকা করে পাম্প মালিক দিলীপ চন্দ্র গোপনে বোতলে তেল সরবরাহ করছেন। এছাড়া পুলিশের উপস্থিতিতেই প্রকাশ্যে বোতলে পেট্রোল বিক্রি করতে দেখা গেছে।
সংকটকালীন এই অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন সংবাদকর্মী। বোতলে তেল বিক্রির ভিডিও ধারণ করায় ‘দৈনিক মুক্তি’ পত্রিকার প্রতিনিধি সজীবের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে স্থানীয়রা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল আরোহীরা দ্রুত এই জ্বালানি সংকট নিরসন এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রশাসনিক তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

