ইবি প্রতিনিধি:
জাতীয় পতাকা ও প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় ব্যাখ্যা দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা ২টার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস কর্নারে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে তারা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ওই বিভাগের স্নাতকের শিক্ষার্থী জুরশেদুল করিম, আফ্রিদি হাসান, মুহম্মদ সাদিক, মায়েশা ফারজানাসহ বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ঘটনার দিনেই আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকে আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি। গতকাল (১৯ এপ্রিল) আমাদের শিক্ষকরা, জিয়া পরিষদ ও বিএনপিপন্থী কর্মকর্তারা সমাবেশ করেছে। এটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত আমরা জানি না তারপরও যদি উনারা কষ্ট পেয়ে থাকেন; আমরা সমাজকল্যাণ পরিবারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা চাই না ম্যামের হত্যাকাণ্ডের বিচার কেউ রাজনৈতিকভাবে অন্যদিকে প্রভাবিত করুক।
তারা বলেন, ঐদিন চার দফা দাবি নিয়ে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে যাই। এবং দাবি আদায়ের জন্য আমরা প্রশাসন ভবনে তালা দেই। এসময় ভিতরে থাকা এক কর্মচারী আমাদের সাথে এবং আমাদের মেয়েদের স্লেজিং করেন। রাগান্বিত অবস্থায় তেড়ে আসার চেষ্টা করেন। তখন আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার সাথে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ওই কর্মচারী গেটে ঝুলানো ব্যানারে আড়ালে চলে গেলে উত্তেজিত অবস্থায় ব্যানারগুলো ছিঁড়ে ফেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। কেউই ইনটেনশনালি এই কাজ করতে যাইনি। পরবর্তীতে ব্যানারগুলো যতটুকু সম্ভব লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী ম্যামের হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতে সেখানে গিয়েছি।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে প্রশাসন ভবনের সামনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এসময় ভিতরে আটকে থাকা এক কর্মকর্তা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে বিরূপ মন্তব্য করেন। এতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার দিকে তেড়ে গেলে, ফটকে ঝোলানো বেগম খালেদা জিয়া ও জাতীয় পতাকার ছবি যুক্ত ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে।

