মোঃ তামজিদ হোসেন রুবেল : রামগঞ্জ, প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিমের একাধিক বক্তব্যকে ঘিরে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তার সাম্প্রতিক ও পূর্ববর্তী বিভিন্ন মন্তব্যকে “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী” ও “সাংবিধানিক মূল্যবোধবিরোধী” আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহল।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে এমপি সেলিম মুসলমানদের ধর্মীয় বিধান—পর্দা ও পোশাক—নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। তিনি বোরকা পরিহিত নারী এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণকারী নামাজি মুসলমানদের “মৌলবাদী” ও “পিছিয়ে পড়া” বলে উল্লেখ করেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে বলে অভিযোগে বলা হয়।
এর আগেও গত ১৩ মার্চ জুমার দিনে রামগঞ্জে একটি মসজিদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইমামদের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ইমামরা রাজনীতিতে জড়িত হতে পারবেন না এবং কেউ জড়িত থাকলে তাকে মসজিদ থেকে বের করে দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচকরা বলছেন, এটি সংবিধান স্বীকৃত নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী। কারণ, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে এক প্রতিবাদমূলক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রামগঞ্জ উপজেলা আমীর মুহাম্মদ নাজমুল হাসান পাটোয়ারী বলেন, “একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের কাছ থেকে এমন অসংযত, বিভাজনমূলক ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে—এমন বক্তব্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। তার দায়িত্ব হওয়া উচিত সমাজে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জোরদার করা, বিভাজন তৈরি করা নয়।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এমপি সেলিমের এসব বক্তব্য নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং তা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে শাহাদাত হোসেন সেলিমকে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় ধর্মপ্রাণ ও সচেতন জনগণ গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে এর জবাব দিতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

