ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভী বিদেশে অবস্থান করেই স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা-র আত্মহত্যায় প্ররোচণার মামলায় সমঝোতার প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ইকরার পরিবার তা দু’দফায় প্রত্যাখ্যান করেছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে এক ব্যবসায়িক বন্ধুর মাধ্যমে এবং পরে ইকরার এক বান্ধবীর মাধ্যমে সমঝোতার প্রস্তাব পাঠানো হয়। কিন্তু ইকরার স্বজনরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এটি আপসের বিষয় নয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসে নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ইকরা। তার মৃত্যুর পর দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে স্বামীর পরকীয়া ও নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যক্তিগত চ্যাট ফাঁস হয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
পরে ১ মার্চ ইকরার বাবা কবির হায়াত খান পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় জাহের আলভী এবং তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলিকে আসামি করা হয়।
ঘটনার সময় নেপালে শুটিংয়ে থাকার কথা জানান জাহের আলভী। স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট দিলেও জানাজায় অংশ নিতে দেশে ফেরেননি এবং এখনও বিদেশে অবস্থান করছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আসামি হিসেবে তার তথ্য ইমিগ্রেশন বিভাগে পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরলেই তাকে গ্রেফতার করা হবে।
এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইকরার মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং জব্দকৃত ডিভাইসের ফরেনসিক রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলার প্রতিবেদন জমা দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইকরার বড় মামা তানভীর আহমেদ বলেন, “এটা কোনো সমঝোতার বিষয় না। আমাদের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। সে যদি নির্দোষ হয় আদালতে প্রমাণ হোক, আর দোষী হলে শাস্তি পাক।” তিনি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, জাহের আলভী বলেন, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন এবং এখনই এ বিষয়ে কথা বলতে চান না। দেশে ফিরে সব প্রশ্নের উত্তর দেবেন বলে জানান তিনি।
তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিম আহমেদ জানান, প্রয়োজনীয় ফরেনসিক ও মেডিক্যাল রিপোর্ট এখনও না পাওয়ায় মামলার অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান বলেন, আসামি গ্রেফতার এবং রিপোর্ট সংগ্রহ—দুই দিকেই গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে পুলিশ।

