আহমেদ মুনহা, চবি প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে দুই ডাব বিক্রেতার দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত প্রায় ৯টার দিকে শহীদ মিনার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের তৎপরতা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহীদ মিনার এলাকায় অবস্থানরত কয়েকজন ছাত্রীকে উদ্দেশ্য করে ডাব বিক্রেতা ও তার সহযোগীরা অশোভন আচরণ ও ডাবল মিনিং মন্তব্য করতে থাকে। বিষয়টি আশেপাশে থাকা শিক্ষার্থীদের নজরে এলে তারা দ্রুত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাকসু প্রতিনিধিদের জানায় ।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন চাকসু প্রতিনিধিরা।
শিক্ষার্থীরা প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরকে অবহিত করা হলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। অভিযুক্তদের চবি পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করা হয়।
একই সঙ্গে অভিযুক্তদের পরিচালিত দুটি ডাবের দোকান উচ্ছেদ করা হয়। জানা গেছে, দোকানগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে স্থাপন করা হয়েছিল। ক্যাম্পাসের একাধিক প্রবেশপথ থাকার সুযোগ নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছিল।
চাকসু আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, কিছু শিক্ষার্থী আমাদের জানায় যে,শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে এক ডাব বিক্রেতা এবং তার সহযোগী বন্ধুরাআমাদের বোনদের বিভিন্নভাবে উত্যক্ত, ইভটিজিং করতেছে।এটা গণহারে করা হচ্ছিল, কাউকে টার্গেট করে না।বিভিন্ন রকম ডাবল মিনিং কথাবার্তা বলে তারা আমাদের বোনদের উত্যক্ত করে। আমরা খবর পাওয়ার সাথে সাথেই সেখানে যাই এবং তৎক্ষনাৎ নিরাপত্তা দপ্তরকে অবহিত করি।
নিরাপত্তা দপ্তর দ্রুত সময়ের মধ্যে চলে আসে।তারপর আমরা দোকানটা উচ্ছেদ করি, কেননা সেটি ছিল অবৈধ দোকান। তার কাছে ক্যাম্পাসে দোকান বসানোর বৈধ অনুমতি নেই ।ক্যাম্পাসে ঢোকার বেশ কয়েকটি গেট থাকায় তারা অবৈধভাবে প্রবেশ করে দোকান বসাতে পেরেছিল।তাদের আরো একটি দোকান ছিল সেটিও আমরা উচ্ছেদ করি।
দুইদিনব্যাপী বৈশাখী মেলায় যাতে আর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে এজন্য নিরাপত্তা ব্যাবস্হা আরো জোরদার করা হবে।।অবৈধ দোকান যেন কেউ না বসাতে পারে সেজন্য দোকান মনিটরিং করা হবে।
নববর্ষ উদযাপন মেলাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার কথাও জানান
অনেক শিক্ষার্থী।
তারা আরো বলেন চবি প্রশাসন, চাকসু প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে কাজ করে চবিকে আরও নিরাপদ ও সহনশীল পরিবেশে পরিণত করতে পারবে।

