হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর হলে ইরানের বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম *ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল*-এর বরাতে বলা হয়েছে, এ পরিস্থিতিতে তেহরানের দৈনিক ক্ষতি প্রায় ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবরোধ কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে তেল, খাদ্য ও সারসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক বাজারে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ভর করবে অবরোধ কতটা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয় এবং দেশটি বিকল্প রুট, বিশেষ করে জাস্ক টার্মিনাল ব্যবহার করে কতটা রপ্তানি চালিয়ে যেতে পারে তার ওপর।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষ দিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে বিপুল পরিমাণ ইরানি তেল জাহাজে মজুত অবস্থায় ছিল, যা সাময়িকভাবে ক্ষতির প্রভাব কিছুটা কমাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ট্রেজারি কর্মকর্তা মিয়াদ মালেকি জানিয়েছেন, রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার কারণে ইরানের দৈনিক ক্ষতির বড় অংশই তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাত থেকে আসবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অবরোধ কেবল অর্থনৈতিক চাপই নয়, বরং চীনের মতো বড় ক্রেতাদের ওপরও পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে যায়।
তবে সামরিক ও কৌশলগতভাবে এই ধরনের অবরোধ বাস্তবায়ন করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

