পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সরাসরি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারার জন্য পরস্পরকে দায়ী করে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক এই কূটনীতির ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় বড় ধরনের যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত বুধবার দুই দেশের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তা শুরু হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ‘ধ্বংসাত্মক’ বা ‘অ্যাপোক্যালিপটিক’ হুমকির মধ্য দিয়ে। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়া হবে। বর্তমানে আলোচনা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হওয়ায় সেই দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিবিসি সংবাদদাতা জো ইনউড মনে করেন, ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন হামলা শুরু হওয়ার ঘোষণা এখনো না এলেও, হামলার সম্ভাবনা এখন অনেক বেশি।
আলোচনার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, যা বর্তমানে ইরানের কার্যকর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি উন্মুক্ত করার বিষয়টি এখন আলোচনার টেবিলের বাইরে চলে গেছে।
তবে পারস্য উপসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে মোতায়েন করা দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি একটি ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক পথে সমাধান না আসায় যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এখন বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জলপথটি নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি’ তেহরান দিতে পারেনি। এটিই ছিল আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার প্রধান কারণ।
অন্যদিকে, ইরান সবসময়ই দাবি করে আসছে যে তারা মারণাস্ত্র তৈরি করতে চায় না। তবে গত এক বছরে দুটি বড় যুদ্ধের অভিজ্ঞতার ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পারমাণবিক অস্ত্র সমর্থকদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারমাণবিক শক্তি অর্জনে আরও মরিয়া হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরাসরি এই সংলাপ ঐতিহাসিক হলেও শেষ পর্যন্ত এটি একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবেই চিহ্নিত হচ্ছে। চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারা কেবল দুই দেশের জন্যই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি অশনি সংকেত।
ইসরায়েলের অনড় অবস্থান, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা এবং উভয় পক্ষের ‘জয়ী’ হওয়ার দাবি এখন বিশ্বকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিল। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো সামরিক অ্যাকশনে যায় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

