আনোয়ার হাসান চৌধুরী, কক্সবাজার প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের টেকনাফ সদরের দক্ষিণ লম্বরী এলাকা থেকে মুক্তিপণ আদায় ও মানব পাচারে অপহরণের শিকার ৪ জনকে উদ্ধার ও ২ জন পাচারকারীকে আটক করেছে র্যাব। সিপিসি-১ টেকনাফ, র্যাব-১৫ এর একটি আভিযানিক দল এই অভিযান পরিচালনা করে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গতকাল টেকনাফ পৌরসভার ঝর্ণা চত্ত্বর এলাকায় অবস্থানকালে সিপিসি-১ টেকনাফ, র্যাব-১৫ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদে জানতে পারে কতিপয় সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা জোর পূর্বক কিছু রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ে একটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সাযোগে টেকনাফ সদরের দক্ষিণ লম্বরী নিয়ে যাচ্ছে।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মোবাইল ফোনে অবহিত পূর্বক টেকনাফ সদরের পর্যটন বাজার হতে মেরিন ড্রাইভগামী আমির আহম্মদ (৬০), পিতা-মৃত আমির হামজা, দক্ষিণ লম্বরী, টেকনাফ এর মুদি দোকানের সামনে পাকা রাস্তা উপর চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। তল্লাশিকালে সন্দেহজনক সিএনজি চালিত অটোরিক্সা থামালে ২ জন ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ২ জন আসামিকে ধৃত করা হয়। আটকরা হল নেয়ামত উল্লাহ (২৯), পিতা-মৃত হাবিব উল্লাহ ও শাহ আলম (৩৭), পিতা-মৃত নবী হোসেন, নতুন পল্লান পাড়া, টেকনাফ সদর। ঘটনাস্থল হতে ৩টি চাবিসহ সিএনজি চালিত ১টি অটোরিক্সা জব্দ করা হয়।
উদ্ধার একজন জানান, ওইদিন দুপুরে উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পের সামনে হতে পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামীরা সিএনজিযোগে অপহরণ করে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে এবং মাঝ পথে সিএনজি চালিত অটোরিক্সার ভিতর আটক পূর্বক মারধর করে তার পরিবারের নিকট ৩ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
অন্যান্য উদ্ধাররা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, পলাতক আসামীরা ভিকটিমদের জবরদস্তিমূলক বিভিন্ন জায়গা এবং পথিমধ্য হতে অপহরণ করে ধাপে ধাপে বর্ণিত ভিকটিমদের ঘটনাস্থলে এনে মালয়েশিয়া পাচারের জন্য জোরপূর্বক পাচারের জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। ভিকটিমদের আটক রেখে মারধর করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রত্যেক ভিকটিমদের পরিবারের নিকট ১ লক্ষ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না দিলে তাদের মালেশিয়া পাচার করার হুমকি দেয়। মুক্তিপণের টাকা না দেওয়ায় ভিকটিমদের কিলঘুষি ও লাথি মেরে জখম করে।
উদ্ধার ভিকটিমদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

