সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি দাবি করেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক প্রশাসনকে ইরানে সামরিক হামলা চালানোর জন্য প্ররোচিত করেছিলেন। তবে সাবেক প্রেসিডেন্টদের প্রায় সবাই সেই প্রস্তাবে রাজি হননি।
শুক্রবার ‘দ্য ব্রিফিং উইথ জেন পসাকি’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জন কেরি জানান, তিনি নিজেই এমন বেশ কিছু রুদ্ধদ্বার আলোচনার সাক্ষী যেখানে নেতানিয়াহু সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলার আহ্বান জানান।
কেরি বলেন, নেতানিয়াহু চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র যেন তার হয়ে ইরানের ওপর আক্রমণ চালায়। এই প্রস্তাব সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে দেওয়া হলেও তারা এতে সম্মতি দেননি। তবে কেরির দাবি অনুযায়ী, একমাত্র সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছিলেন।
জন কেরি জানান, নেতানিয়াহু ইরানে হামলার স্বপক্ষে একটি বিস্তারিত ‘চার দফা প্রস্তাব’ পেশ করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, এই হামলার মাধ্যমে:
১. ইরানের নেতৃত্বকে দুর্বল করা যাবে।
২. দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে।
৩. ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হবে।
তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে এক বড় ধরনের অভিযান চালায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারা নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। একইসঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয় তেহরান।
টানা ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পাকিস্তান, চীন, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় ওয়াশিংটন ও তেহরান। সেই সমঝোতার অংশ হিসেবে আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে দুই দেশের প্রতিনিধি দল ঐতিহাসিক আলোচনায় বসছে। বিশ্ববাসীর নজর এখন এই বৈঠকের দিকে, যা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী শান্তির ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।

