দেওয়ান মাসুকুর রহমান, নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি নেত্রী শেগুফতা রাব্বানী।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি মনোনয়ন ফর্ম জমা দেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে মানুষের সেবায় কাজ করার লক্ষ্য থেকেই তিনি এই মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। দল মনোনয়ন দিলে তিনি মৌলভীবাজার জেলার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কখনো দলীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫, ঢাকা-১৭ এবং মৌলভীবাজার-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার, জনসংযোগ ও নির্বাচনী কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।
শেগুফতা রাব্বানী বলেন, মৌলভীবাজারের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। সেখানেই তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই তিনি রাজনীতির পরিবেশে বড় হয়েছেন এবং এলাকার মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি জানান, মৌলভীবাজার শহরের শাহ মোস্তফা সড়কস্থ তাদের বাসাটি একসময় জেলা বিএনপির কার্যক্রমের কেন্দ্র ছিল। সেখান থেকেই দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। তার মা খালেদা রব্বানী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং চারবার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার বাবা ছিলেন বিএনপির একজন নিবেদিত কর্মী। শৈশব থেকেই তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি আরও জানান, মৌলভীবাজার জেলার বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে এবং অতীতে নেতাকর্মীরা বিপদে পড়লে তিনি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ও সহযোগিতা করেছেন। তাঁর ঢাকার বাসায় অনেক থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলন।
শিক্ষাজীবনে তিনি মৌলভীবাজারের আলী আমজাদ বালিকা বিদ্যালয় ও মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে পড়াশোনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি বলেন, দল মনোনয়ন দিলে তিনি নারী ক্ষমতায়ন, তৃণমূল মানুষের কল্যাণ এবং মৌলভীবাজারের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন।
তার এই মনোনয়ন জমা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে এবং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

