আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন— এমন ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন, যা উদ্ধৃত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য অস্ত্র সরবরাহের উৎস আড়াল করতে বেইজিং তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে এসব সরঞ্জাম পাঠানোর চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা (ম্যানপ্যাডস) পাঠানোর প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে চীন। ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানান, সংঘর্ষকালীন সময়ে কোনো পক্ষকেই অস্ত্র সরবরাহ করে না বেইজিং। এ ধরনের গোয়েন্দা তথ্যকে তিনি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তেজনা না বাড়ানোর আহ্বান জানান।
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ছয় সপ্তাহের সংঘাতের পর ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে কেন্দ্র করে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও পরিস্থিতি এখনও নাজুক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইরান তার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে পারে এবং এ ক্ষেত্রে বিদেশি অংশীদারদের সহায়তা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন যদি সরাসরি ইরানকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। যদিও বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে সংঘাতে নিরপেক্ষ হিসেবে তুলে ধরার কৌশল অনুসরণ করছে।
উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে তেহরানের ওপর বেইজিংয়ের নির্ভরতা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

