যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জ্বালানি বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে হলে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে ইরান এই রুট বন্ধ করে দিলে জ্বালানির সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করে, সেখানে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
অন্যদিকে জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি, বীমা ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নও সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। কিছু দেশে সংরক্ষণ সংকটের কারণে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তা পুনরায় চালু করতে সময় লাগবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ স্বাভাবিক হতে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, যদি নতুন করে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণেও সতর্কতা দেখা গেছে। বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যা জ্বালানি সংকটের প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করে।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী না হলে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানির দাম উচ্চ অবস্থানেই থাকতে পারে।

