Bangla FM
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • কলাম
  • ভিডিও
  • অর্থনীতি
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • প্রবাস
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
Bangla FM

বাঙালির আত্মীক শিকড় পহেলা বৈশাখ

Bangla FM OnlinebyBangla FM Online
৪:২৩ pm ১০, এপ্রিল ২০২৬
in Semi Lead News, কলাম
A A
0

অ আ আবীর আকাশ

পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। বাংলা বছরের প্রথম দিনটি কেবল একটি তারিখ নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক উজ্জ্বল প্রতীক। গ্রাম থেকে শহর, ধনী থেকে গরিব—সবাই একসঙ্গে মিশে যায় এই দিনে। আনন্দ, উৎসব, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলা তৈরি হয় পহেলা বৈশাখকে ঘিরে।

বাংলা নববর্ষের সূচনা মূলত মুঘল আমলে সম্রাট আকবরের সময় থেকে। তখন কৃষকদের সুবিধার্থে ফসল তোলার মৌসুম অনুযায়ী বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয়। সেই থেকেই বৈশাখ মাসের প্রথম দিনটি নতুন হিসাব-নিকাশের সূচনা হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। একসময় এই দিনটি ছিল মূলত কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জমির খাজনা পরিশোধ, হালখাতা খোলা—এসব ছিল প্রধান আয়োজন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি পরিণত হয়েছে বাঙালির সার্বজনীন উৎসবে।
পহেলা বৈশাখ মানেই নতুন পোশাক, নতুন আশা আর নতুন স্বপ্ন। সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে নতুন জামা পরে বের হওয়া—এই রীতিটি এখনও অনেক পরিবারে দেখা যায়। গ্রামের দিকে এই দিনের সকালটা একটু অন্যরকম। পাখির ডাক, হালকা রোদ আর চারপাশে উৎসবের আমেজ—সব মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়। শহরে যেমন মঙ্গল শোভাযাত্রা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়, গ্রামে তেমন আয়োজন না থাকলেও সেখানে থাকে সহজ-সরল আনন্দের ছোঁয়া।

বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ হলো বৈশাখী মেলা। আমরা যাকে গুলিয়া নামে চিনতাম। এই মেলা যেন গ্রামীণ জীবনের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। ছোট ছোট দোকান, মাটির খেলনা, বাঁশের তৈরি জিনিস, হাতে বানানো পাখা, চুড়ি, নানা ধরনের মিষ্টি—সব মিলিয়ে এক অন্যরকম জগৎ। শিশুরা মেলায় গিয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায়। বড়রাও ফিরে যায় শৈশবের স্মৃতিতে।
একসময় বৈশাখী মেলায় গিয়ে ‘গুলিয়া’ বা ছোট দা কিনে আনার এক বিশেষ আনন্দ ছিল। গ্রামের ছেলেদের কাছে এটি ছিল গর্বের বিষয়। কেউ কেউ এই দা দিয়ে গাছের ডাল কাটত, আবার কেউ খেলনার মতো ব্যবহার করত। এই ছোট ছোট জিনিসগুলোই ছিল আমাদের আনন্দের উৎস। এখনকার শিশুদের কাছে হয়তো এসবের গুরুত্ব কমে গেছে, কিন্তু একসময় এগুলোই ছিল জীবনের বড় সুখ।

মেলায় গেলে শুধু কেনাকাটাই নয়, ছিল নানা ধরনের খেলাধুলা ও বিনোদনের আয়োজন। নাগরদোলা, সার্কাস, বায়োস্কোপ—এসব ছিল মেলার প্রাণ। বায়োস্কোপে চোখ লাগিয়ে একের পর এক ছবি দেখা, কিংবা নাগরদোলায় চড়ে আকাশ ছোঁয়ার চেষ্টা—এসব স্মৃতি আজও অনেকের মনে গেঁথে আছে। গ্রামের মেলায় কখনো কখনো পালাগান, যাত্রাপালা বা লাঠিখেলার আয়োজনও হতো, যা ছিল গ্রামীণ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পহেলা বৈশাখের খাবারও আমাদের সংস্কৃতির একটি বড় অংশ। পান্তা-ইলিশ এখন শহুরে সংস্কৃতির একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে, যদিও গ্রামে আগে থেকেই পান্তা ভাতের প্রচলন ছিল। গরমের দিনে ঠান্ডা পান্তা ভাত, সঙ্গে কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ আর ভর্তা—এটাই ছিল সাধারণ মানুষের খাবার। এই সহজ খাবারই এখন উৎসবের অংশ হয়ে গেছে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেছে। এখনকার বৈশাখ আগের মতো সরল নেই। শহরের উৎসবগুলো অনেকটা বাণিজ্যিক হয়ে উঠেছে। বড় বড় আয়োজন, ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন, জমকালো অনুষ্ঠান—এসবের ভিড়ে কোথাও যেন হারিয়ে যাচ্ছে সেই সহজ-সরল আনন্দ। গ্রামের মেলাগুলোও আগের মতো প্রাণবন্ত নেই। অনেক জায়গায় মেলার পরিধি ছোট হয়ে গেছে, কিছু কিছু জায়গায় তো মেলাই বসে না।

শিশুরা এখন আর মেলায় গিয়ে গুলিয়া বা ছোট দা কেনে না। তারা ব্যস্ত মোবাইল ফোন, ভিডিও গেম আর আধুনিক খেলনায়। নাগরদোলা বা বায়োস্কোপের জায়গা নিয়েছে ডিজিটাল বিনোদন। ফলে নতুন প্রজন্ম সেই পুরোনো আনন্দের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তবুও পহেলা বৈশাখের গুরুত্ব একটুও কমেনি। এটি এখনও আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা কারা, আমাদের শিকড় কোথায়। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক কিছু বদলালেও আমাদের উচিত এই ঐতিহ্যগুলোকে ধরে রাখা।
গ্রামীণ বৈশাখের সেই হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো হয়তো আর ফিরে আসবে না, কিন্তু আমরা চাইলে তার কিছুটা অন্তত ধরে রাখতে পারি। পরিবারের ছোটদের মেলার গল্প বলা, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার সঙ্গে পরিচয় করানো, দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ তৈরি করা—এসবের মাধ্যমে আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারি।

পহেলা বৈশাখ শুধু আনন্দের দিন নয়, এটি এক ধরনের আত্মশুদ্ধির দিনও। পুরোনো বছরের সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে নতুনভাবে শুরু করার প্রেরণা দেয় এই দিনটি। তাই এই উৎসবকে শুধু বাহ্যিক আনন্দে সীমাবদ্ধ না রেখে এর ভেতরের অর্থটাও আমাদের উপলব্ধি করা উচিত।

সবশেষে বলা যায়, পহেলা বৈশাখ আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। বৈশাখী মেলার সেই গুলিয়া, ছোট দা, নাগরদোলা কিংবা বায়োস্কোপ—এসব স্মৃতি আমাদের শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। সময় বদলাবে, মানুষ বদলাবে, কিন্তু আমাদের এই সংস্কৃতি যেন না হারিয়ে যায়—সেটিই হওয়া উচিত আমাদের সবচেয়ে বড় চেষ্টা।

ShareTweetPin

সর্বশেষ সংবাদ

  • যুদ্ধবিরতিতে হামলা মেনে নেবে না ইরান
  • ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস
  • বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল
  • অবৈধভাবে মজুত ৭০৯ লিটার ডিজেল জব্দ, দুই ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড
  • ট্রাম্পকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ, জি-৭ সম্মেলনে আনতে চান ম্যাকরন

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুর ইসলাম (রাশেদ মানিক)
নির্বাহী সম্পাদক: মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ

বাংলা এফ এম , বাসা-১৬৪/১, রাস্তা-৩, মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ

ফোন:  +৮৮ ০১৯১৩-৪০৯৬১৬
ইমেইল: banglafm@bangla.fm

  • Disclaimer
  • Privacy
  • Advertisement
  • Contact us

© ২০২৬ বাংলা এফ এম

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • প্রবাস
  • ভিডিও
  • কলাম
  • অর্থনীতি
  • লাইফস্টাইল
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • চাকুরি
  • অপরাধ
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • ফটোগ্যালারি
  • ফিচার
  • মতামত
  • শিল্প-সাহিত্য
  • সম্পাদকীয়

© ২০২৬ বাংলা এফ এম