আবু জাফর বিশ্বাস,
বরিশাল-ভোলা সড়কে কালাবাঁদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ ভোলা সেতু নির্মাণ প্রকল্প পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি। বাস্তবায়িত হলে এটি হবে দেশের দীর্ঘতম সেতু, যা দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
বুধবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভা সূত্রে জানা গেছে, ভোলা জেলার সঙ্গে বরিশাল হয়ে ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যেই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ১০.৮৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের সেতু এবং ১৮.০৭৫ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হওয়ায় পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সেতুটি চালু হলে ২০৩৩ সালে দৈনিক প্রায় ৪,৯৯৬টি এবং ২০৬২ সালে ৪১ হাজার ৮৬৫টি যানবাহন চলাচল করবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ৫০৭.৫ একর জমি অধিগ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি স্থানান্তরের ব্যয় সরকার বহন করবে।
বর্তমানে দেশের একমাত্র দ্বীপজেলা ভোলার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ পুরোপুরি নৌপথনির্ভর। বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে।
বর্তমানে ভোলা থেকে বরিশাল যেতে ফেরি বা লঞ্চে সময় লাগে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। সেতু নির্মাণ হলে এই সময় কমে দাঁড়াবে মাত্র ১০ থেকে ২০ মিনিটে। এতে জরুরি চিকিৎসা সেবা, পণ্য পরিবহন ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন, শিল্প ও ব্যবসা খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। হোটেল-রিসোর্ট, পরিবহন, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি সেতু ঘিরে গড়ে উঠতে পারে নতুন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা, যা ভোলা-বরিশালকে কেন্দ্র করে একটি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপ নেবে।

