সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
ত্রয়োদশ (১৩তম) জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেছেন, মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ) আসন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য,চা-বাগান,পাহাড় ও হাওরের জন্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।
তিনি উল্লেখ করেন,শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের ‘চায়ের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এবং এই এলাকা অর্থনীতির পাশাপাশি পরিবেশ ও পর্যটনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি তার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এলাকায় থাকা প্রাকৃতিক ও পর্যটন সম্পদকে কাজে লাগাতে একটি সমন্বিত পর্যটন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন জরুরি।
তিনি জানান,এই অঞ্চলে রয়েছে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হামহাম জলপ্রপাত,লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এবং বাইক্কা বিল। এসব স্থানে দেশি-বিদেশি পর্যটক নিয়মিত ভ্রমণে আসেন। পাশাপাশি এলাকায় বসবাসরত মণিপুরি,খাসিয়া ও ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি দেখতে বিদেশি দর্শনার্থীরাও আগ্রহী হয়ে আসেন।
তিনি আরও বলেন,তার নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ২৯টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পর্যটন খাতকে আরও গতিশীল করতে একটি বিশেষ পর্যটন ট্রেন চালুর দাবিও জানান তিনি।
রেল যোগাযোগ উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত পুরোনো রেললাইন সংস্কার করে আধুনিক ও নিরাপদ রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নের দাবিতে তিনি শ্রীমঙ্গল-শমশেরনগর-কমলগঞ্জ হয়ে চাতলাপুর সীমান্ত পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার আহ্বান জানান। এতে ভারতের সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।
স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা জরুরি। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রীমঙ্গলের চা নিলাম কেন্দ্র পুনরায় চালুর দাবি জানান তিনি,যা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চা নিলাম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
চা শিল্পের শ্রমিকদের জীবনমান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য। তিনি বলেন,”চা শ্রমিকরা বর্তমানে যে মজুরি পান,তা দিয়ে তাদের পক্ষে পরিবার পরিচালনা করা কঠিন। তাই শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনমান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।”
তার বক্তব্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে এলাকায় বনভূমি ধ্বংস করা হয়েছে এবং পরিকল্পনাহীনভাবে পাহাড় কেটে বিভিন্ন রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এসব রিসোর্ট থেকে সরকার কোনো রাজস্বও পাচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন,অতীতে আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্য দীর্ঘ ৩৭ বছর এই এলাকায় প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সেই সময়ের শাসনের প্রভাব স্থানীয় মানুষ এখনও অনুভব করেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারা সরকারি ও রেলওয়ের জমি দখলের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান সংসদ সদস্য।

