আবু জাফর বিশ্বাস:
দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষা ও বিজ্ঞান চর্চায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে বরিশালে নির্মাণাধীন অত্যাধুনিক নভোথিয়েটারের কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের ৮০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।
নগরীর চরআইচা এলাকায় ১০ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে এই বৃহৎ স্থাপনা। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৪১২ কোটি টাকা, যা পরে সংশোধন করে ৪৬০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এটি দেশের ৮টি আইকনিক নভোথিয়েটার প্রকল্পের অন্যতম।
প্রকল্পে থাকছে আধুনিক প্লানেটরিয়াম, প্রশাসনিক ভবন, প্লাজা, ডরমেটরি, দুটি ডোমসহ মোট ২৬টি অবকাঠামো। দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে ৩০৪ আসনের গ্যালারি, ১৭৫ আসনের অডিটোরিয়াম এবং ১৭৫টি গাড়ি রাখার সুবিধাসহ আধুনিক পার্কিং ব্যবস্থা।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম জানান, নির্মাণকাজ দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে। “প্রকল্পের কাজ বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে,” বলেন তিনি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবস্থান হওয়ায় শুরুতে নির্মাণকাজে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে বেইজমেন্ট নির্মাণ ও সাইট প্রস্তুতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। ফলে সময় ও ব্যয় উভয়ই বেড়েছে।
প্রকল্প প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, “ভৌগোলিক কারণে শুরুতে কাজ কঠিন ছিল। তবে বর্তমানে দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। প্রতিদিন প্রায় ২০০ শ্রমিক কাজ করছেন।
গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের বৈদ্যুতিক কাজের প্রায় ৯০ শতাংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে যন্ত্রপাতি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে।
নভোথিয়েটারটি কেবল মহাকাশ গবেষণার কেন্দ্রই নয়, বরং একটি সমন্বিত শিক্ষা ও বিনোদন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে শিশুদের জন্য পার্ক, ভাস্কর্য এবং আধুনিক বিনোদন সুবিধা রাখা হয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, এই নভোথিয়েটার চালু হলে দক্ষিণাঞ্চল-এর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা বৃদ্ধি পাবে এবং মহাকাশ গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে।

