নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট :
নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে বলে পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। গবেষণায় দেখা যায়, মানুষের শরীর একটি প্রাকৃতিক জৈব ঘড়ি বা বায়োলজিক্যাল ক্লকের ওপর নির্ভর করে, যা ঘুম, ক্ষুধা, হজম এবং শক্তি ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
যখন খাবারের সময় প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়, তখন শরীরকে বারবার নতুন সময়সূচির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়, ফলে অভ্যন্তরীণ সিস্টেমের ভারসাম্য কিছুটা ব্যাহত হতে পারে। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট সময়ে খাবার গ্রহণ করলে হজম প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয় এবং পুষ্টি শোষণ উন্নত হয়।
প্রথম কয়েক সপ্তাহের পরিবর্তন
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শরীর পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শুরু করে। নির্দিষ্ট সময়ে ক্ষুধা লাগার প্রবণতা তৈরি হয়, ফলে অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাকিং কমে যায়। রাতের বেলায় অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছাও ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। এই সময়ে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনও নতুন রুটিনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে শুরু করে।
এক মাস পরের প্রভাব
প্রায় এক মাসের মধ্যে শরীর আরও স্থিতিশীল শক্তি অনুভব করতে পারে। রক্তে শর্করার ওঠানামা তুলনামূলকভাবে কমে যায়, ফলে মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে হজমজনিত সমস্যা যেমন পেট ফাঁপা কমে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে।
৯০ দিন পরের ফলাফল
প্রায় তিন মাস বা ৯০ দিনের মধ্যে এই অভ্যাস শরীরের একটি স্বাভাবিক রুটিনে পরিণত হয়। ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ আরও স্থিতিশীল হয়, রাতের ক্রেভিং কমে যায় এবং ঘুমের মান উন্নত হতে পারে। একই সঙ্গে শরীর শক্তিকে ফ্যাটে রূপান্তরের প্রবণতা কিছুটা কমিয়ে মেটাবলিক স্বাস্থ্যকে সহায়তা করতে পারে।
খাবারের সময় কেন গুরুত্বপূর্ণ
গবেষণায় দেখা যায়, দিনের বেলায় শরীর খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে বেশি সক্রিয় থাকে, আর রাতের বেলা বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের জন্য উপযুক্ত। তাই সকালের নাস্তা, নির্দিষ্ট সময়ে দুপুরের খাবার এবং আগেভাগে রাতের খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলেন, শুধু খাবারের সময় ঠিক রাখলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপের সঙ্গে এটি মিলিয়ে চললে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও মেটাবলিজম উন্নত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের অন্তত তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।


