উজিরপুর বরিশাল প্রতিবেদক:
উজিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গ্রাম হস্তিশুন্ড—একসময় যে গ্রাম ক্রীড়ার উচ্ছ্বাসে ছিল মুখর। ১৯৮৮ সালে এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এক স্মরণীয় “মিনি অলিম্পিক”; সেটিই ছিল গ্রামীণ ক্রীড়ার এক গৌরবময় সূচনা, আর দুঃখজনকভাবে দীর্ঘদিন সেটিই হয়ে ছিল শেষ আয়োজন।
সময়ের পরিক্রমায় হারিয়ে যেতে থাকে গ্রামের সেই প্রাণচঞ্চল খেলার মাঠ। আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার, মোবাইল আসক্তি ও নানা নেতিবাচক প্রভাব তরুণ সমাজকে ধীরে ধীরে দূরে সরিয়ে দেয় খেলাধুলা থেকে। এমন বাস্তবতায় পরিবর্তনের প্রত্যয়ে এগিয়ে আসে পশ্চিম হস্তিশুন্ডের সচেতন যুবসমাজ। তরুণদের সুস্থ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও ক্রীড়ামুখী জীবনে ফিরিয়ে আনতে তারা গড়ে তোলে ঐক্যের এক দৃঢ় প্ল্যাটফর্ম।
এই মহৎ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে প্রবাস জীবন ছেড়ে গ্রামের টানে ফিরে আসেন লন্ডনপ্রবাসী রফিকুল ইসলাম রায়হান ডাকুয়া। তাঁর আন্তরিক সহযোগিতা ও উপস্থিতিতে আয়োজন করা হয় “ইসমাইল ডাকুয়া স্মৃতি ক্রীড়া অনুষ্ঠান”—যা পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা ও নতুন জাগরণের প্রতীক হিসেবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রফিকুল ইসলাম হিমেল এবং সভাপতিত্ব করেন মোঃ জলিল ডাকুয়া। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রফিকুল ইসলাম রায়হান ডাকুয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— ভবতোষ চক্রবর্তী, মনির ডাকুয়া, মুহিন হাওলাদার, মোঃ দুলাল ডাকুয়া, খোকন নাগ, জসিম উদ্দিন রুবেল, মানিক মোল্লা,উজিরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান মাসুম,নির্বাহী সদস্য আসাদুজ্জামান সোহাগ, নাজমুল হকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ক্রীড়া উৎসবটিতে ফিরে আসে হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা আয়োজন—হাড়িভাঙা, তৈলাক্ত কলাগাছে ওঠা, শক্তির পরীক্ষা হিসেবে রশি টানাটানি এবং প্রাণবন্ত ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। প্রতিটি ইভেন্টে ছিল দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উচ্ছ্বাস, যা পুরো গ্রামকে করে তোলে আনন্দমুখর।
এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়—এটি হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ, সামাজিক বন্ধনের পুনর্গঠন এবং তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করার এক শক্তিশালী বার্তা।
হস্তিশুন্ডের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অন্যান্য গ্রামগুলোর জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

