গত মঙ্গলবার রাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট নেত্রী আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ তাঁর অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণ তাঁকে ক্ষমতায় রাখার জন্য বিপজ্জনক।
ট্রাম্প তাঁর ডেডলাইনের শেষ মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছিলেন, “একটি সভ্যতা আজ পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে মুছে যাবে” (A whole civilization will die tonight)। ওকাসিও-কর্তেজ এই মন্তব্যকে সরাসরি ‘গণহত্যার হুমকি’ (Threat of Genocide) হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি এই ভয়ংকর মানসিকতার কোনো সমাধান নয়।
ওকাসিও-কর্তেজ সরাসরি দাবি তুলেছেন যে:
ক্যাবিনেটের ভূমিকা: প্রেসিডেন্টের মন্ত্রিসভাকে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে তাঁকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করতে হবে।
কংগ্রেসের ভূমিকা: যদি মন্ত্রিসভা ব্যর্থ হয়, তবে কংগ্রেসকে দ্রুত অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
তাঁর ভাষায়, “আমরা আর বিশ্বকে এবং আমাদের দেশের মঙ্গলকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না। আমরা বিপদের কিনারায় চলে এসেছি।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল কংগ্রেসেই নয়, রাজপথেও প্রচণ্ড বিরোধিতার মুখে পড়েছেন। গত ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হয়েছে ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম বিক্ষোভ ‘নো কিংস’ (No Kings) আন্দোলন।
আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৩,৩০০টি স্থানে এই আন্দোলনে ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন।
ট্রিলিয়ন ডলারের যুদ্ধব্যয়, অর্থনৈতিক মন্দা, তেলের সংকট এবং ট্রাম্পের ‘কর্তৃত্ববাদী’ শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে এই আন্দোলন ছিল সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। পাকিস্তান ও ওমান এই চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী:
ইরান আগামী দুই সপ্তাহ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখবে।এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবকাঠামোতে (বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু) হামলা স্থগিত রাখবে।
যদিও যুদ্ধ আপাতত থেমেছে, কিন্তু মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ এখন খাদের কিনারায়। ওকাসিও-কর্তেজ ছাড়াও ইলহান ওমর এবং রাশিদা তালিবের মতো আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর দ্রুত অপসারণ দাবি করেছেন।

