ট্রাম্প সরাসরি ‘পারমাণবিক হামলা’র কথা উল্লেখ না করলেও তাঁর হুমকি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরান যদি নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চুক্তি না করে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো লক্ষ্য করে বিধ্বংসী হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, “আজ রাতে একটি আস্ত সভ্যতা মারা যেতে পারে, যা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।”
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে, বর্তমান সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র (Operation Epic Fury) অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা চিরতরে বন্ধ করতে তিনি যেকোনো চরম পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
প্রেসিডেন্টের আলটিমেটাম অনুযায়ী: আজ মঙ্গলবার রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম)।
বাংলাদেশ সময়: আগামীকাল বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ৬টা।
ট্রাম্পের হুমকির মুখে ইরানের সাধারণ মানুষ এবং যুবকরা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর চারপাশে ‘মানব ঢাল’ (Human Chain) তৈরি করেছে যাতে হামলা প্রতিহত করা যায়।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) জানিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র রেড লাইন অতিক্রম করে, তবে তাদের জবাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা ‘অঞ্চলের বাইরে’ ছড়িয়ে পড়বে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, সমঝোতার একটি ‘ভালো সম্ভাবনা’ থাকলেও যদি তা না হয়, তবে মধ্যরাতের মধ্যেই ইরানের অবকাঠামো ‘দশক পেছনে’ ঠেলে দেওয়ার মতো হামলা হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বেসামরিক অবকাঠামো বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর এ ধরনের ব্যাপক হামলা ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
আজ রাতের হামলায় পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করা হবে কি না—তা নিয়ে হোয়াইট হাউস সরাসরি কিছু বলেনি, তবে ট্রাম্পের ‘সভ্যতা ধ্বংস’ করার মতো মন্তব্য এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলার হুমকি বিশ্বজুড়ে এক চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে।

