ইরানের মাটিতে মার্কিন পাইলট উদ্ধারের দাবি নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন সাবেক সিআইএ (CIA) বিশ্লেষক ল্যারি সি. জনসন। তার দাবি, ওয়াশিংটন এই অভিযান নিয়ে যে বর্ণনা দিয়েছে তা “একাধিক দিক থেকে ভুল ও মিথ্যা”। এই তথাকথিত ‘রেসকিউ মিশন’ আসলে ছিল একটি বৃহত্তর সামরিক পরিকল্পনার অংশ, যার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের নাতানজ (Natanz) পারমাণবিক স্থাপনা।
মার্কিন অভিযানের নেপথ্যে বিশাল ক্ষয়ক্ষতি
আল মায়াদিন এবং স্থানীয় ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র বিশাল সামরিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র সীমিত ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছে, তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী মোট ১২টি মার্কিন আকাশযান ধ্বংস বা ভূপাতিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
২টি MC-130 কার্গো বিমান
৮টি হেলিকপ্টার (যার মধ্যে ব্ল্যাকহকও রয়েছে)
২টি অত্যাধুনিক রিপার ড্রোন
ল্যারি জনসনের মতে, এটি কেবল পাইলট উদ্ধারের ঘটনা হলে এত বিশাল বহর এবং ভারী বোমাবর্ষণের প্রয়োজন হতো না। মূলত পাইলট উদ্ধারের আড়ালে আমেরিকা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে।
সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ ও আইআরজিসি (IRGC)-র ভূমিকা
ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যেখানে যুদ্ধ হয়েছে, সেখানে বসবাসকারী সাধারণ উপজাতিরা তাদের পুরনো বন্দুক নিয়ে মার্কিন এয়ারক্রাফটের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এমনকি তারা একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, শুরুতে সেখানে আইআরজিসি উপস্থিত না থাকলেও সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের পর তারা এসে যুদ্ধে যোগ দেয়। আইআরজিসি-র পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া এতগুলো আকাশযান ভূপাতিত করা সম্ভব হতো না বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত আমেরিকা প্রায় হাফ বিলিয়ন ডলারের রাডার এবং ৭০০ মিলিয়ন ডলারের আকাশযান হারিয়েছে। বর্তমান ক্ষয়ক্ষতির ধাক্কা সামলাতে এবং সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করতে পেন্টাগনকে অন্তত ২৫.৪ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হবে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, ইরানের সুনির্দিষ্ট আক্রমণে আমেরিকার ‘চোখ’ খ্যাত রাডার ব্যবস্থা এবং মিসাইল ইন্টারসেপ্টর (প্রতিরোধক) মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু প্রশাসনের যুদ্ধের চাপে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক টুইট বার্তায় (এক্স) জানিয়েছেন, দেশের সুরক্ষায় ১৪ কোটিরও (১৪ মিলিয়ন) বেশি ইরানি নাগরিক জীবন দিতে প্রস্তুত। তিনি নিজেও দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
ইরান এই সংঘাতের একটি চূড়ান্ত ফয়সালা চায়। বারবার যুদ্ধবিরতি করে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার পূর্ণ করার যে কৌশল ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র অতীতে নিয়েছে, তা আর চলতে দিতে রাজি নয় তেহরান। তাদের অবস্থান পরিষ্কার—হয় ইরানকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করো, নয়তো পরাজয় মেনে নিয়ে এমন চুক্তিতে সই করো যাতে ভবিষ্যতে আর হামলার দুঃসাহস না হয়।

