আবুল হাসনাত, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ছয় বছর বয়সী শিশু শরিফা খাতুনের হত্যাকাণ্ড ঘিরে দিনভর শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয় জনপদ।
সোমবার সকালে উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি বাজারে দাঁড়িপাতা নুরানি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন। এতে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, “একটি নিষ্পাপ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমরা দ্রুত বিচার চাই।”
মানববন্ধনের কয়েক ঘণ্টা পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে শিশুটির মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এরপর রিকশা ভ্যানে করে বাড়ির পথে রওনা দেন তার বাবা শহিদুল ইসলাম ও দাদা আব্দুল করিম। এ সময় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে কান্না ও আহাজারিতে।
নিহত শিশুর দাদা আব্দুল করিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “কিছুদিন আগে পোতা জামাই অন্তর আমার কাছে এক লাখ টাকা চেয়েছিল। আমি গরিব মানুষ, দিতে পারিনি। আমার সঙ্গে রাগ থাকলে আমার ক্ষতি করত, কিন্তু ছোট নাতনিটাকে কেন মেরে ফেলল?
শিশুটির বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমার কিছুই নেই, টাকা দিতে পারিনি। তাই বলে আমার মেয়েকে এভাবে হত্যা করবে? আমি এর বিচার চাই।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার উপজেলার আলিনগর ইউনিয়নের মকরমপুরে তাফসির মাহফিলে যাওয়ার সময় পরিবারের সঙ্গে থাকলেও পরে নিখোঁজ হয় শরিফা। পরে তার দাদা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
গোমস্তাপুর থানার ওসি নূরে আলম জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভিকটিমের দুলাভাই অন্তরকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আলিনগর ইউনিয়নের বিজলীপাড়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নিহতের দাদা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন এবং প্রধান আসামি অন্তর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
দিনভর শোক ও প্রতিবাদে গোমস্তাপুরজুড়ে সৃষ্টি হয় এক গভীর শোকাবহ পরিবেশ, যা স্থানীয়দের মনে রেখে গেছে স্থায়ী ক্ষত।

