মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি:
যশোরের শার্শা উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর প্রত্যাহার ও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করেছেন শার্শাবাসী।
সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) সকাল১১টার সময় শার্শা উপজেলা পরিষদের সামনে “শার্শাবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় হাজার হাজার সাধারণ মানুষ এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু বক্তব্য বলেন,আমরা দীর্ঘদিন ধরে শার্শা উপজেলার পিআইও শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দেখে আসছি।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও শার্শা ১ আসনের বিএনপির ধানের শীষের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন ওই কর্মকর্তার মোবাইলে ফোন করলে তিনি তাকেও হুমকি দেন এবং তার অডিও রেকর্ড ফেসবুকে পোস্ট করেন।
তিনি আরও বলেন একাধিকবার তাকে প্রশ্ন করেছেন,কেন একই ব্যক্তিকে বারবার একাধিক প্রকল্প দেওয়া হচ্ছে? এটি স্পষ্টভাবে দুর্নীতির শামিল। তিনি বিভিন্ন ইউনিয়নের মহিলা মেম্বার ও জনপ্রতিনিধিদের ডেকে ভুয়া প্রকল্পে স্বাক্ষর নিচ্ছেন,অথচ বাস্তবে সেই কাজগুলো হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে,বালির পরিবর্তে মাটি ব্যবহার,একই ইটভাটা থেকে ইট নিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।
আমাদের কাছে এসব অনিয়মের প্রমাণ রয়েছে,ছবি, ভিডিও এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, একজন ব্যক্তিকে একাধিক প্রকল্প দেওয়া সরকারি নিয়মের পড়েনা। এতে সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আমাদের দাবি—পিআইও রঞ্জুকে দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
যদি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো। সেই আন্দোলনের দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে। আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত, শান্তিপূর্ণ প্রশাসন চাই এটাই আমাদের দাবি, বলে তিনি জানান।
মানববন্ধন শেষে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক সাইদুজ্জামান,যুব বিষয়ক সম্পাদক
কামাল উদ্দিন বিশ্বাস, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম,সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন,বেনাপোল ৪নং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর সিদ্দিকী,সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ইদ্রিস ডাক্তার, পুটখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের এবং উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী পারুল বেগমসহ ১১ টি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন,“গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উপজেলার কিছু বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। এসব বিষয়ে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত স্মারকলিপিটি যথাযথ সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।”
তিনি আরও জানান, “বিষয়টি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ হিসেবে তারাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রয়োজন হলে তদন্ত কমিটি গঠন বা সংশ্লিষ্ট কাজগুলো পুনরায় যাচাই করা হতে পারে।”
ইউএনও আরও বলেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টিও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে নির্দিষ্ট মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
শার্শা উপজেলার পিআইও শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের কাছ থেকে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার যেসব এলাকায় নিম্নমানের কাজের অনিয়ম : ডিয়ি ইউনিয়নের ট্যাংরালী সড়ক নির্মাণে নকশা অনুযায়ী কাজ না করা
ভুয়া ভাউচার: জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে জোরপূর্বক ভুয়া স্বাক্ষর গ্রহণ
অসম্পূর্ণ প্রকল্প: আংশিক কাজ সম্পন্ন করেই সম্পূর্ণ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলন
টেন্ডার অনিয়ম: একই ব্যক্তির মাধ্যমে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন
প্রভাব বিস্তার: দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ, অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, এসব অনিয়মের পক্ষে ছবি, ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাক্ষ্যসহ প্রমাণ রয়েছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযুক্ত কর্মকর্তার প্রত্যাহার,নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হতে পারে বলে যানাগেছে।

