ঢাকা বিভাগের মুন্সিগঞ্জ জেলার বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবীণ বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মন্ডল আর নেই। শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে তিনি মারা গেছেন। কয়েক দিন আগে তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
রবিবার (০৫ এপ্রিল) পরিবারের সদস্যরা জানান,গত ১ এপ্রিল হঠাৎ করে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা ব্রেন স্ট্রোক শনাক্ত করেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই শনিবার (০৪ এপ্রিল) বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি থাইরয়েডজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। অস্ত্রোপচারও করা হয়েছিল,তবে এরপরও তাঁর শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে। শেষ জীবনে তাকে আর্থিক সংকটের মধ্যেও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ২৪ বছর ধরে শিক্ষকতা করেছেন হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল। বিজ্ঞান শিক্ষক হিসেবে তিনি বহু শিক্ষার্থীকে পড়িয়েছেন এবং এলাকায় একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
২০২২ সালের মার্চ মাসে একটি ঘটনার পর তিনি সারা দেশে আলোচনায় আসেন। দশম শ্রেণির একটি ক্লাসে বিজ্ঞান ও ধর্মের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করার সময় তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একটি কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৯ দিন কারাগারে থাকতে হয়।
পরে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং পুলিশের তদন্তে অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়। এরপর ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ আদালত তাকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।
মুক্তির পর তিনি জানিয়েছিলেন,মিথ্যা অভিযোগের কারণে তাকে মানসিকভাবে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। কারাগারে থাকা এবং সামাজিকভাবে অপমানিত হওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।
গত বছরের নভেম্বর মাসে তিনি আবারও আলোচনায় আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ চালাতে না পারার কথা জানিয়ে তিনি আর্থিক সহায়তা চান।
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের পর শেষ কয়েকটি বছর তাকে কাটাতে হয়েছে অসুস্থতা,আর্থিক সংকট ও নানা দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে। তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষা অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

