সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা দুটি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল–২০২৬’সহ দুটি পৃথক বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী বিল দুটি সংসদে উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। এতে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো এখন আইনে রূপ নিল।
সংসদ সূত্রে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে অনুমোদনের সুপারিশ করে বিশেষ সংসদীয় কমিটি। বাকি অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে কিছু রহিত এবং কিছু নতুন করে প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়। আজ পাস হওয়া দুটি বিল ছিল বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী।
বিল দুটি উপস্থাপনের সময় কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) দফাওয়ারি ভোটে দিলে অল্প সময়ের মধ্যেই কণ্ঠভোটে বিল দুটি পাস হয়।
বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে আলোচনার দাবি জানান। জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, প্রতিটি অধ্যাদেশ পরবর্তীতে সংসদে আলাদাভাবে উত্থাপন করে আলোচনার সুযোগ থাকবে।
বিল অনুযায়ী, বিসিএসসহ সিভিল সার্ভিস, অন্যান্য সরকারি চাকরি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোতে সরাসরি নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রে নিজস্ব বিধিমালা বহাল থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন নিয়োগবিধিতে বয়সসীমার ভিন্নতা থাকায় জটিলতা তৈরি হচ্ছিল, যা নিরসনে নতুন সংশোধন আনা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে।
একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধি সংক্রান্ত কঠোর বিধানও বিলের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে। এতে অসদাচরণ, নির্দেশ অমান্য, কর্মবিরতি বা কর্তব্যে বাধা সৃষ্টি করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে নিম্ন গ্রেডে অবনমন, বাধ্যতামূলক অবসর বা চাকরিচ্যুতির বিধান রাখা হয়েছে।
সংসদে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল–২০২৬’ পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে সিভিল সার্ভিসসহ সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোতে সরাসরি নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। বিল অনুযায়ী সিভিল সার্ভিসের সকল ক্যাডার ও অন্যান্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রে নিজ নিজ বিধিমালা বহাল থাকবে। এর আগে সংসদ অধিবেশনে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয় এবং বিভিন্ন নোটিশের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

