বরগুনায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সদর উপজেলাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলায় এই ঘাতক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে জেলাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং আক্রান্তের তালিকায় শিশুদের পাশাপাশি বড়দের নামও যুক্ত হচ্ছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত জেলায় মোট ১৩২ জন হামে আক্রান্ত সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৫ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের ভাইরাস পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১২২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বজনরা সরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্যারাসিটামল ছাড়া আর কোনো ওষুধ মিলছে না। বুড়িরচর ইউনিয়নের আলেয়া বেগম এবং ঢলুয়া এলাকার শিউলি বেগম জানান, কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও প্রায় সব ওষুধ বাইরে থেকে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে, যা দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ সদর উপজেলাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকাদান কার্যক্রম ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুতই এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসবে।”
একনজরে বরগুনার হাম পরিস্থিতি (৫ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত):
মৃত্যু: ৩ শিশু।
মোট শনাক্ত (সন্দেহভাজন): ১৩২ জন।
ল্যাব নিশ্চিত সংক্রমণ: ২৫ জন।
শনাক্তের হার: ৩০% (নমুনা অনুযায়ী)।
ঘোষণা: সদর উপজেলা ‘রেড জোন’।

