পর্যটন নগরী বান্দরবানে দিন দিন অ্যাম্বুলেন্স নম্বরধারী গাড়ির সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, ব্যক্তিগত গাড়িকে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে নিবন্ধন করে সরকারি ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে চালানো হচ্ছে এসব যানবাহন। এর ফলে একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে বৈধ গাড়ির মালিকরা চরম বিপাকে পড়ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশেষ করে “ছ-৭১” সিরিয়ালের অধীনে থাকা অনেক গাড়ি অ্যাম্বুলেন্সের সুযোগ-সুবিধা নিলেও বাস্তবে সেগুলো যাত্রী পরিবহন বা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্সের জন্য আমদানি শুল্ক ও বার্ষিক ট্যাক্স তুলনামূলক অনেক কম বা নেই বললেই চলে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কম দামে গাড়ি কিনে অ্যাম্বুলেন্স নম্বর নিয়ে রাস্তায় নামাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ট্রাফিক বিভাগের কিছু অসাধু সদস্যকে মোটা অঙ্কের মাসোহারা দিয়ে এসব করমুক্ত গাড়ি নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা সাধারণ মানুষকে বিস্মিত করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেবল ট্যাক্স ফাঁকিই নয়, এসব ‘নামসর্বস্ব’ অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম ও অবৈধ মালামাল পরিবহন করা হচ্ছে। এছাড়া শহরের প্রধান সড়কগুলোর দুইপাশ দখল করে এসব গাড়ি অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা হয়। ফলে সরু পাহাড়ি রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, যা পর্যটক ও স্থানীয়দের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি ছড়াচ্ছে।
যাঁরা সঠিক নিয়ম মেনে ও সরকারি ট্যাক্স পরিশোধ করে গাড়ি চালাচ্ছেন, তাঁরা এই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় দিশেহারা। তাঁদের মতে, জরুরি সেবার নাম ভাঙিয়ে যারা ব্যক্তিগত বিলাসিতা বা ব্যবসা করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অ্যাম্বুলেন্সের আড়ালে এই বিশাল রাজত্ব চললেও প্রশাসন কেন নীরব? কবে নাগাদ এসব অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে—এমন প্রশ্ন এখন বান্দরবানবাসীর মুখে মুখে।

