মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেল ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক ‘ফুড প্রাইস ইনডেক্স’ ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২.৪ শতাংশ বেড়েছে, যা টানা দ্বিতীয় মাসের মতো মূল্যবৃদ্ধির রেকর্ড।
এফএও-র তথ্যমতে, খাদ্য সূচকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। ফেব্রুয়ারির তুলনায় এটি ৫.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাবে পাম তেলের দাম ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে দানাশস্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় এই খাতে যুদ্ধের প্রভাব কিছুটা কম অনুভূত হচ্ছে।
এফএও-র প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো তোরেরো এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন:
বর্তমানে দামের বৃদ্ধি মূলত তেলের কারণে হলেও সারের চড়া দাম ভবিষ্যতে বড় সংকট তৈরি করতে পারে।
যুদ্ধ যদি ৪০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে কৃষকদের তিনটি কঠিন পথ বেছে নিতে হবে—হয় কম উপকরণ নিয়ে চাষ করা, চাষের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া, অথবা কম সার প্রয়োজন এমন ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়া।
এই সিদ্ধান্তগুলো চলতি বছরের বাকি সময় এবং আগামী বছরের খাদ্য সরবরাহ ও দামের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে।
যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এর চরম মূল্য দিতে হচ্ছে হাজার মাইল দূরে দক্ষিণ এশিয়ায়। সার সরবরাহ ও জ্বালানি সংকটের কারণে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপালের কোটি কোটি কৃষক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলার কারণে গম ও ভুট্টার ভবিষ্যৎ নিয়েও ‘বাড়তি অনিশ্চয়তা’ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে এফএও।

