মোঃ শরিফ বিল্লাহ, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটি গোঁসাইগঞ্জ এলাকায় বন বিভাগের সংরক্ষিত জমি কেটে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী কুচক্রী মহল প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এ অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শব্দিগঞ্জ বন বিভাগ সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রকাশ্যেই চলছে বালু উত্তোলন। স্থানীয় কয়েকজনের মহেন্দ্র গাড়ি ও স্থানীয় শ্রমিকদের ব্যবহার করে প্রতিদিনই বালু কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। এতে করে ধীরে ধীরে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ জমি, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, গত ৫ আগস্টের পর থেকে বনের আশেপাশের স্থানীয় কিছু বনদস্যু ও ভূমিদস্যু গোষ্ঠী সংগঠিত হয়ে প্রথমে গাছ কেটে বনাঞ্চল দখল করে নেয়। পরবর্তীতে একই কৌশলে এখন তারা (শব্দিগঞ্জ রিজার্ভ ফরেস্টের) অর্থাৎ সরকারি বন বিভাগের গাছ কেটে নদী সংলগ্ন জমির বালু উত্তোলনের করছে। তারা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যেই এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ ফরেস্টে কয়েকজন গার্ড রয়েছে তারা এ ব্যাপারে কখনোই কোন ভূমিকা পালন করেনি। পাশাপাশি বালু উত্তোলনের এ জায়গায় উপজেলা প্রশাসনের কেউ কখনো এসে পরিদর্শনও করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজরদারি ও তৎপরতার অভাবেই দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড।
এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা রেঞ্জ অফিসারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত আছি। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। তবুও আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি আমি এখনই লোক পাঠাচ্ছি।
এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে বেশ কয়েকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে, যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক, নচেৎ ভবিষ্যতে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। এবং এই বন যেটুকু আছে সেটিও ধ্বংস হয়ে যাবে।

