নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের চরাঞ্চল ও রায়পুরার মণিপুরা এলাকার মধ্যে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট কিছুটা লাঘব হয়েছে একটি কাঠের সেতু নির্মাণের মাধ্যমে। স্থানীয় জনগণের আর্থিক সহযোগিতা এবং স্পেন প্রবাসী মো. আল আমিনের উদ্যোগে নির্মিত এ সেতুটি দুই অঞ্চলের মানুষের চলাচলে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন এই চরাঞ্চলের বাসিন্দারা ভোগান্তির মধ্যে জীবনযাপন করে আসছিলেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো তাদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে অসুস্থ রোগী নিয়ে নদী পার হতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। কচুরিপানার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো নৌকা পারাপারের জন্য, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতো।
শিক্ষা খাতেও এর প্রভাব ছিল স্পষ্ট। যাতায়াতের অসুবিধার কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুল-কলেজে যেতে পারত না, ফলে শিক্ষার হারও ছিল আশানুরূপ নয়।
এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে নির্মিত কাঠের সেতুটি আলোকবালীর খোদাদিলা এলাকা ও মণিপুরার মধ্যে একটি কার্যকর সংযোগ স্থাপন করেছে। বর্তমানে এই সেতু ব্যবহার করে স্থানীয়রা সহজে যাতায়াত করতে পারছেন, চিকিৎসা ও শিক্ষা সেবাও কিছুটা সহজলভ্য হয়েছে।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, এই কাঠের সেতু একটি অস্থায়ী সমাধান মাত্র। বর্ষা মৌসুমে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই দ্রুত একটি টেকসই পাকা সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
তাদের মতে, একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি মিলবে।

