ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের পঞ্চম সপ্তাহে এসে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) আলব্রোজ প্রদেশের কারাজ শহরে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম উঁচু ও কৌশলগত ‘বি-১’ সেতুটিতে দুই দফা মিসাইল হামলা চালিয়ে এর মধ্যভাগ ধ্বংস করা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং ইরানি বার্তা সংস্থা ইরনা (IRNA) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আলব্রোজ প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর কুদরতুল্লাহ সাইফ জানিয়েছেন, এই হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং ৯৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে স্থানীয় গ্রামবাসী এবং ওই এলাকায় প্রকৃতি দিবস (Nature Day) উপলক্ষে ঘুরতে আসা সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরা রয়েছেন। প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটির মাঝামাঝি অংশ হামলার পর ধসে নিচে পড়ে যায়।
হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ধ্বংসপ্রাপ্ত সেতুর ভিডিও শেয়ার করে লেখেন:
“ইরানের বৃহত্তম সেতুটি ধসে পড়েছে, যা আর কখনো ব্যবহৃত হবে না। ইরান যদি সময় থাকতে চুক্তিতে না আসে এবং সুন্দর একটি দেশ গড়ার স্বপ্ন বিসর্জন দেয়, তবে সামনে আরও অনেক বড় ধ্বংসযজ্ঞ অপেক্ষা করছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই সেতুটি ব্যবহার করে ইরান পশ্চিম দিকে ক্ষেপণাস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন করত।
বেসামরিক অবকাঠামোতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) লিখেছেন:
“অসমাপ্ত সেতুসহ নাগরিক স্থাপনার ওপর হামলা ইরানিদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারবে না। প্রতিটি ধ্বংসপ্রাপ্ত সেতু ও ভবন আরও শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হবে। কিন্তু যা আর ফিরে আসবে না, তা হলো আমেরিকার সম্মান।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বি-১ সেতুটি তেহরান ও কারাজের মধ্যে যানজট নিরসন এবং উত্তর দিকে যাতায়াত সহজ করতে নির্মাণ করা হচ্ছিল। এই সেতু ধ্বংসের ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

