দেশের আসন্ন বাজেটকে ঘিরে অর্থনীতিতে একাধিক চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদন ও বিনিয়োগ প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়া।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর ইতোমধ্যে বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। নতুন বাজেটে দরিদ্র মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগবান্ধব করনীতি প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে চলমান অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাজেট বাস্তবায়ন কিছুটা বেড়েছে। এর মধ্যে উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় বেতন-ভাতা, ভর্তুকি ও ঋণ পরিশোধের মতো পরিচালন ব্যয়েই বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। একই সময়ে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ না বাড়লে উৎপাদন, প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান কোনো কিছুই আশানুরূপভাবে বৃদ্ধি পাবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বাজেটে বড় লক্ষ্যগুলো—যেমন এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি—বাস্তবায়ন করতে হলে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের অগ্রগতি প্রয়োজন।
অন্যদিকে, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন। তাদের মতে, শক্তিশালী রাজস্ব কাঠামো ও কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া নতুন বাজেটের লক্ষ্য পূরণ কঠিন হবে।

