মোঃ জাহিদুল ইসলাম, বরিশাল প্রতিনিধি:
ঐতিহাসিক চরমোনাইতে তিনদিন ব্যাপী ফাল্গুুনের বাৎসরিক মাহফিল শুরু হয়েছে।
এ বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রমজান মাসের কারণে মাহফিলের নির্ধারিত সময় পিছিয়ে আনা হয়েছে।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইসলামী সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এই চরমোনাই ময়দানে। প্রতিবছর অগ্রহায়ন ও ফাল্গুন মাসে অনুষ্ঠিত এ মাহফিল ও ইসলামী সন্মেলনে দেশ বিদেশের লক্ষ লক্ষ ইসলাম প্রিয় ধর্ম প্রান মুসলমান আসে
১ এপ্রিল বুধবার বাদ যোহর চরমোনাইর পীর মুফতী সৈয়দ রেজাউল করিমের উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে আরম্ভ হয়েছে তিন দিন ব্যাপী এ মাহফিল।এবং ৪ এপ্রিল শনিবার বাদ ফজর আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে ইসলামী এ সমাবেশ।
প্রতিদিন ২ টি করে মোট ৭ টি বয়ান পেশ করবেন পীর সাহেব হুজুর চরমোনাই। এছাড়া দেশের নামকরা গুরুত্বপূর্ণ বিশিষ্ট আলেম ও রাজনৈতিক ব্যক্তিগন ইসলামি এ সন্মেলনে বক্তব্য রাখবেন।
প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও মুসল্লীদের থাকার জন্য ছয়টি মাঠে প্যান্ডেলের ব্যবস্হা করেছে মাহফিল আয়োজক কমিটি। এছাড়াও আগত মুসল্লিদের চিকিৎসা সেবার জন্য ১৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল প্রস্তুুত রয়েছে। মাহফিলের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য মুজাহিদ কমিটির সদস্যের নিয়ে রয়েছে বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক দল। পাশাপাশি রয়েছে পুলিশ র্যাব সহ আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি।
ঐতিহাসিক এ মাহফিলের প্রথম দিনেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে গোটা মাহফিল এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
প্রথম দিনের উদ্বোধনী বয়ানে চরমোনাইর পীর মুফতী সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন, “চরমোনাইর এ মাহফিল দুনিয়াবি কোনো উদ্দেশ্যে নয়, বরং আত্মশুদ্ধি এবং মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। এখানে যারা এসেছেন, তাদের প্রধান লক্ষ্য হতে হবে নিজের গুনাহ থেকে তওবা করে আল্লাহর পথে ফিরে আসা।”
মাহফিলের দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ওলামা মশায়েখ সন্মেলন। যেখানে দেশ বিদেশের খ্যাতিমান ইসলামী দার্শনিক ও আলেমগন বক্তব্য রাখবেন। এবং তৃতীয় দিন ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ছাত্র, যুব, ও শ্রমিক আন্দোলনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
ইতিমধ্যেই বাস, লঞ্চ ও ছোট ছোট ট্রলারে করে হাজার হাজার মানুষ মাহফিল ময়দানে এসে সমবেত হয়েছে। মূল মাঠ ছাড়িয়ে আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং নদীর তীরে নোঙর করা কয়েকশ লঞ্চেও মুসল্লিরা অবস্থান নিয়েছেন।
আগামী তিন দিন ধারাবাহিকভাবে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বয়ান শেষে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে মাহফিলের সমাপ্তি ঘটবে। উল্লেখ্য যে, মাহফিলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে উপস্থিতির সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

