মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ন্যাটোর সমর্থন না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জোটে থাকা নিয়ে তিনি নতুন করে ভাবছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ রাখা এখন গুরুত্বের সঙ্গে পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে মিত্র দেশগুলোর কাছে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানানো হলেও সাড়া মেলেনি। অথচ বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই মিত্রদের পাশে থেকেছে, কিন্তু প্রয়োজনের সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেনি। তার দাবি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ন্যাটোর এই দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত।
যুক্তরাজ্যকেও সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, দেশটির নৌবাহিনী দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-এর প্রতিরক্ষা ব্যয় নীতিরও সমালোচনা করেন।
তবে এসব মন্তব্যের জবাবে স্টারমার ন্যাটোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, এটি বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকর সামরিক জোট। তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান যুদ্ধ ব্রিটেনের যুদ্ধ নয় এবং এতে জড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ন্যাটোকে ‘একপাক্ষিক সম্পর্ক’ বলে সমালোচনা করেছেন। তিনি জানান, মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় ওয়াশিংটন অসন্তুষ্ট এবং যুদ্ধ শেষে জোটের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করা হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে ন্যাটোর কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত ‘পে-টু-প্লে’ মডেলে প্রতিরক্ষা ব্যয়ে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না করা দেশগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ সীমিত করার চিন্তা রয়েছে। পাশাপাশি জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিও বিবেচনায় আছে।
উল্লেখ্য, ন্যাটো-এর অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী, কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে সেটিকে পুরো জোটের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে ইরান যুদ্ধ এই ধারার আওতায় পড়ে না।

