স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ অন্তর্বর্তী সরকারের এক অন্তহীন প্রতারণার দলিল। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, এই আদেশের জন্মই বৈধ নয় এবং এর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা রহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন:
“রাষ্ট্রপতি কোনো আদেশ দ্বারা সার্বভৌম সংসদের ক্ষমতা হ্রাস করতে পারেন না। সংবিধানের চতুর্থ তফশিলের ধারা ১৭/২ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির এই আদেশ জারির ক্ষমতা নেই। এটি একটি অবৈধ পদক্ষেপ।”
তিনি আরও যোগ করেন, অধ্যাদেশের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি সংসদের সার্বভৌম ক্ষমতা খর্ব করেছেন এবং অন্তর্বর্তী সরকার এর মাধ্যমে সংবিধান লঙ্ঘন করেছে।
বিএনপি সংস্কার চায় না বলে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, তার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি বাক্য আমরা ধারণ করি। এটি একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলিল। কিন্তু জনরায়কে সম্মান করতে হবে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন ৭০ শতাংশ মানুষের কাছে এই সনদের পক্ষে বা বিপক্ষে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হলো না।
আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করেন। তিনি বলেন, তিনি রাষ্ট্রপতিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন তিনি এমন আদেশ জারি করতে পারেন কি না। রাষ্ট্রপতির উত্তর উদ্ধৃত করে মন্ত্রী বলেন:
“রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন—আমি তো পারি না, আমাকে পারাচ্ছে। রাজহংসীকে জোর করে সোনার ডিম পাড়ানোর মতো। এখন সেটি একটি অবৈধ ডিম।” সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের কাগজ সংসদ সদস্যদের হাতে পৌঁছানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এই কাগজ সংসদে পাঠানোর এখতিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের ছিল না। এটি কীভাবে সদস্যদের হাতে গেল, তা সংসদ সচিবের কাছে জানতে চান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যে সংসদ অধিবেশনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতা নিয়ে তাঁর এই প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

