মোঃ শরিফ বিল্লাহ, ডোমার উপজেলা প্রতিনিধি :
নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় একটি বেসরকারি ক্লিনিককে ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সিজার অপারেশনের পর বিল পরিশোধ করতে না পারায় নবজাতক বিক্রির জন্য রোগীর স্বজনদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
জানা যায়, ডোমার উপজেলা পরিষদ মার্কেট এলাকায় অবস্থিত একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে প্রসব বেদনা নিয়ে ভর্তি হন এক গৃহবধূ। পরবর্তীতে সিজার অপারেশনের মাধ্যমে তার সন্তান জন্ম হয়। কিন্তু ক্লিনিকের নির্ধারিত বিল পরিশোধ করতে না পারায় শুরু হয় জটিলতা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিল পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। এমনকি একপর্যায়ে রোগী ও তার স্বজনদের একটি কক্ষে আটকে রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে তারা জানান, বিল পরিশোধের বিকল্প হিসেবে নবজাতক শিশুকে বিক্রি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক জানান, শুধুমাত্র বিল পরিশোধের বিষয়টি নিয়েই কথা বলা হয়েছে, অন্য কোনো অভিযোগ সঠিক নয়।
ঘটনার প্রেক্ষিতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন ক্লিনিকটিতে অভিযান চালায়। প্রাথমিক তদন্তে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। দায়িত্বে অবহেলা, পর্যাপ্ত জনবলের অভাব এবং চিকিৎসকের অনুপস্থিতিসহ একাধিক অসঙ্গতি চিহ্নিত হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্লিনিকটিকে জরিমানা করা হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

