আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল ব্যুরো:
বরিশাল বিভাগজুড়ে শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগ হাম মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত মার্চ মাসজুড়ে বিভাগের ৬ জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে শতাধিক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে, যা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিভাগে মোট ২০৬ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ১৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫২ জনের শরীরে হাম এবং আরও ৩ জনের শরীরে হাম-রুবেলা শনাক্ত করা হয়েছে।
জেলা ভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, বরগুনা জেলায় সর্বোচ্চ ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঝালকাঠি ও ভোলায় ২ জন করে এবং বরিশাল জেলায় ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বরগুনা জেলায় ৮০ শিশু উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়ে ২২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পটুয়াখালীতে ৩১ জন ভর্তি হলেও ১৪ জনের মধ্যে ২ জন পজিটিভ পাওয়া গেছে। বরিশাল জেলায় ২৯ জন ভর্তি হয়ে ৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এছাড়া ভোলায় ১৮ জনের মধ্যে ৫ জন, ঝালকাঠিতে ১৫ জনের মধ্যে ৬ জন এবং পিরোজপুরে ১৬ জনের মধ্যে ১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, “শিশুদের মধ্যে এভাবে হামের বিস্তার আগে দেখা যায়নি। বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলায় পরিস্থিতি তুলনামূলক বেশি গুরুতর। আক্রান্তদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতির কারণে অনেক শিশু ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ বানারীপাড়ার ৭ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ও আইসোলেশন ইউনিটে ২৯ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর জানান, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। একাধিক শিশুকে একই বেডে রাখতে হচ্ছে, এমনকি নতুন কক্ষে মেঝেতেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. বিকাশ চন্দ্র নাগ বলেন, “সাধারণত ৯ মাস বয়সের পর হামের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু এখন তার আগেই শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে টিকাদান কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। অভিভাবকদের শিশুদের প্রতি বিশেষ নজরদারি এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

