জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়েছে শতাধিক পরিবারের বসতঘর। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ঢেউটিন বিতরণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
সোমবার ৩০ র্মাচ সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক ঝড়ে উদয়পুর ইউনিয়নে পাইকপাড়া এলাকায় প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক পরিবারের বসতঘরের টিন উড়ে যায়, দেয়াল ভেঙে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারিভাবে ঢেউটিন বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা সঠিকভাবে বিতরণ হয়নি।
ত্রাণের তালিকা তৈরিতে প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি’র যুগ্ন আহ্বায়ক প্রভাষক আব্দুল আলীম ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করেন এবং সেখানে তার আপন বড় ভাই, ভাস্তা আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এতে আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের পাশাপাশি একটি পরিত্যক্ত ঘড়ে টিন বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নুরুল ইসলামের অন্ধ স্ত্রীসহ একাধিক ভুক্তভোগী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন ঝড়ে আমাদের ঘরের সব টিন উড়ে গেছে। স্বামী-সন্তান নিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছি। খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে, তবুও কোনো সরকারি সহায়তা পাইনি। আমি গরিব মানুষ একটি সন্তানকেও অন্যের কাছে লালন-পালনের জন্য দিতে হয়েছে।
ফুলমিয়াসহ আরো অনেক ভুক্তভোগী বলেন, ঝড়ে আমাদের বাড়ির টিন উড়ে গেছে। আমরা কোনো সরকারি সাহায্য পাইনি। গরু বিক্রি করে ও ঋণ নিয়ে ঘরে টিন লাগাতে হয়েছে। অথচ যাদের পাকা বাড়ি ও জমিজমা আছে, তারাই সরকারি ত্রাণের ঢেউটিন পেয়েছে। এমন লোকও টিন পেয়েছে, যারা ওই ঘরে থাকেই না।”
পরিত্যক্ত ঘরের মালিক নবাব আলী প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে বলেন, প্রায় দের মাস আগে ঘড়ে থাকার অযোগ্য হয়েছে। বর্তমান পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে ঘরটি। তিনি তার ছেলের নামে বরাদ্দ সরকারী আবাসন প্রকল্পের ঘড়ে বসবাস করছেন। বর্তমানে তার ছেলে শশ্বর বাড়ীতে থাকেন। ঝড়ের ক্ষতিগ্রস্থ তালিকায় তার নাম থাকায় তিনি সরকারীভাবে ঢেউটিন বরাদ্দ পেয়েছেন।
ইউনিয়ন বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক আব্দুল আলিম বলেন,
গত কয়েকদিন আগে কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় ১০০টি বাড়ি টিন উরে যায়। ক্ষয়ক্ষতির ভিত্তিতেই তালিকা করা হয়েছে। যারা হত দরিদ্র তারাই পেয়েছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত তারাই ত্রাণ পেয়েছে। সকলকে ঢেউটিন দেয়া সম্ভব হয়নি। আত্মীয় স্বজনদের ত্রাণ পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “তাদেরও ক্ষতি হয়েছে, তারাও ঢেউটিন পেয়েছে। আমার পরিবারের যারা সরকারি ত্রাণ পেয়েছে কেউই সামর্থ্যবান নয়।
উদয়পুর ইউনিয়ন ইপি সদস্য বাদশা মিয়া বলেন উদয়পুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. বাদশা মিয়া বলেন, ত্রাণের ঢেউটিন বিতরণে কিছু অসঙ্গতির অভিযোগ শুনেছি। তবে বিষয়টি যাচাই করে দেখা দরকার। যদি কেউ অনিয়ম করে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
কালাই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিমাই চন্দ্র বলেন সরকারি নিয়ম মেনেই ত্রাণ বরাদ্দ ও বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রণীত তালিকার ভিত্তিতেই টিন দেওয়া হয়। আমি কি আমার মতো করে কাজ করতে পারি। আমার উর্ধতন কতৃপক্ষ আছে না। যেভাবে আমরা নির্দেশনা পেয়েছি। আপনি বলতে পারবেন না যে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ঝড় যখন হয় গরিব বড়লোক সবার ক্ষতি হয়। আপনি সবই জানেন,সবই বুঝেন।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা.শামীমা আক্তার৷ জানান, ঘূর্ণিঝড়ে কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে। অধিকাংশ ঘড়ের টিন উরে গেছে। তারা খোলা আকাশের নিচেই বসবাস করছে তাৎক্ষনিক উপজেলায় যে পরিমাণ ঢেউটিন ছিলো তা দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায়ছি খুব দ্রুত আমরা বরাদ্দ পাবো। বরাদ্দ পেলে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ঢেউটিন বিতরন করতে পারবো

