ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে জাতিসংঘ থেকে পদত্যাগ করেছেন সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ও ‘প্যাট্রিয়টিক ভিশন’ (পিভিএ)-এর স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাফা। সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) এবং একটি দীর্ঘ চিঠির মাধ্যমে তিনি এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দেন।
২০১৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থা পিভিএ-র নির্বাহী পরিচালক এবং ২০১৬ থেকে জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ সাফা তাঁর পদত্যাগের পেছনে বেশ কিছু গুরুতর কারণ উল্লেখ করেছেন:
সাফার অভিযোগ, জাতিসংঘ এমন এক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে যেখানে ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, “জাতিসংঘ বর্তমানে ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতির জন্য কাজ করছে।”
তিনি দাবি করেন, জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর একটি ‘শক্তিশালী লবি’ প্রভাব বিস্তার করছে, যারা নতুন বিশ্বব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সাফার মতে, জাতিসংঘের কিছু কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করতে অনিচ্ছুক। এমনকি ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর ভিন্নমত পোষণ করায় তাঁকে নানা ভিত্তিহীন অভিযোগ ও সেন্সরশিপের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তেহরানের জনবহুল চিত্র তুলে ধরে সাফা বলেন, তেহরান কোনো জনশূন্য মরুভূমি নয়; এখানে প্রায় এক কোটি সাধারণ মানুষ ও শিশু বাস করে। ওয়াশিংটন বা লন্ডনে পারমাণবিক হামলা হলে পৃথিবীর প্রতিক্রিয়া কেমন হতো—সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন:
“আমি এই তথ্য ফাঁস করার জন্য আমার দীর্ঘ কূটনৈতিক ক্যারিয়ার ত্যাগ করেছি। এই মানবতাবিরোধী অপরাধের সাক্ষী না হওয়ার জন্য আমি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।”
যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ‘নো কিংস’ (No Kings) স্লোগানের বিশাল বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে তিনি বিশ্ববাসীকে রাজপথে নামার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, কেবল সাধারণ মানুষের প্রতিবাদই এই সম্ভাব্য ধ্বংসযজ্ঞ থামাতে পারে।
মোহাম্মদ সাফা অভিযোগ করেছেন যে, এই প্রতিবাদের কারণে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি গত তিন বছর ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে শেষ পর্যন্ত এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মোহাম্মদ সাফার এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এবং পদত্যাগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

