সালমান আহমদ সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের নির্ধারিত সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি পার হয়ে এক মাস অতিবাহিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ ১০টি ক্লোজারে এখনো জিও টেক্সটাইল ও জিও ব্যাগ স্থাপন করা হয়নি। সম্প্রতি কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধগুলো এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পাউবো কর্তৃপক্ষ ও পিআইসিদের অবহেলায় ফসলের সুরক্ষা নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে উপজেলায় হাওরের বাঁধ নির্মাণের জন্য ৪১টি পিআইসির বিপরীতে ৭ কোটি ৬৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। শনিবার উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, জামালগঞ্জের সর্ববৃহৎ পাগনার হাওরের ৪০ ও ৪১ নম্বর পিআইসির সমন্বয়ে নির্মাণাধীন বগলাখালী ক্লোজারের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। ৪৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকা ব্যয়ে এই দুটি পিআইসির মাধ্যমে কাজ চললেও সেখানে এখন পর্যন্ত জিও টেক্সটাইল বা জিও ব্যাগ লাগানো হয়নি। একইভাবে হালি, শনি ও মোহালিয়া হাওরের গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারগুলোও জিও ব্যাগবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বাঁধের সুরক্ষায় জিও ব্যাগ ও টেক্সটাইল অত্যন্ত জরুরি হলেও রহস্যজনক কারণে তা এখনো লাগানো হয়নি। এর ফলে সামান্য পানির চাপেই বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জনির বিরুদ্ধে উপজেলার ক্লোজারগুলোতে জিও টেক্সটাইল ও জিও ব্যাগ সরবরাহের সিন্ডিকেট গড়ার অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পিআইসি সভাপতি জানান, নির্দিষ্ট কোম্পানির সাথে আঁতাত করে এসও নিজেই মালামাল সরবরাহের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং পিআইসিদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করেছেন। তাদের দাবি, এসও-র মাধ্যমে মালামাল না আনলে কাজ ‘রিজেক্ট’ করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়, যার ফলে তারা বাধ্য হয়ে তাকে টাকা দিয়েছেন। এছাড়া কোনো কোনো পিআইসিতে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া এবং পরিদর্শন খরচ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও পিআইসিদের কাছ থেকে যাতায়াত ভাড়া আদায়ের গুঞ্জনও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগের বিষয়ে পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জনি বলেন, স্থানীয়ভাবে মানসম্মত জিও টেক্সটাইল ও জিও ব্যাগ পাওয়া যায় না বলেই তিনি পিআইসিদের ভালো কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করতে সহায়তা করেছেন মাত্র। তবে কারো কাছ থেকে টাকা নেওয়া বা পরিবহন খরচ আদায়ের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় যখন হাওরবাসী নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন, তখন দ্রুততম সময়ে এসব ক্লোজারে জিও ব্যাগ স্থাপন করে বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

