মোঃ শরিফ বিল্লাহ , ডোমার উপজেলা প্রতিনিধি
নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় অবস্থিত নেসকো বিদ্যুৎ অফিসে বজ্রপাত সুরক্ষা (লাইটনিং প্রোটেকশন) ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার চুরির একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, গত ১৬ মার্চ কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা অফিসের ভেতরে স্থাপিত বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থার মূল্যবান তার কেটে নিয়ে যায়। এতে অফিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুরির ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছে। কারণ, এসব বজ্রপাত সুরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত তার সাধারণত উচ্চমানের তামা বা অন্যান্য দামী ধাতু দিয়ে তৈরি, যা সহজেই বিক্রি করে অর্থ পাওয়া যায়।
বিদ্যুৎ অফিসের একটি গোপন সূত্র জানায়, শাকিল ইসলাম নামের এক যুবক এই চুরির সঙ্গে জড়িত তাকে সিসি ক্যামরাতে দেখা গেছে । পরবর্তীতে তিনি চুরি করা তার মিলন ইসলাম নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন। শাকিল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ী মিলন ইসলাম বলেন, তিনি শাকিল ইসলামের বাড়ি থেকে প্রায় ৩১ কেজি ওজনের বৈদ্যুতিক তার ৪৬ হাজার টাকায় কিনে নেন এবং পরে তা জাহাঙ্গীর নামের আরেক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন। বিক্রয়ের সময় শাকিল ইসলামের বাবা ও পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী নওশাদ আলম জানান, “আমাদের বিদ্যুৎ অফিস থেকে বজ্রপাত সুরক্ষা ব্যবস্থার বিপুল পরিমাণ তার চুরি হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে থানা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। চুরির আলামত থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।”
ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুল্লাহ বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা থেকে নিরাপত্তা সরঞ্জাম চুরি হওয়ায় তারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ অফিসে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

