শাহ জামাল শাওন, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামে ওষুধের বাজারে অঘোষিত মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে। কম দামে ওষুধ বিক্রি করতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে ওষুধ কিনতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু এবং সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু গত রবিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে ওষুধের বাজারে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ, অঘোষিত মূল্য নির্ধারণ এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, কোনো কোনো ফার্মেসি এমআরপি-এর চেয়ে কম দামে ওষুধ বিক্রি করতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটছে। এতে বাজারে কৃত্রিম মূল্য নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ ধরনের কার্যক্রম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে বিষয়টি জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও উত্থাপিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি এবং সেনাবাহিনীর কুড়িগ্রাম ক্যাম্প কমান্ডার মেজর ইনজামুল আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
জেলা ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক হাফিজুর রহমান জানান, জেলায় ২ হাজার ২৬৫টি ফার্মেসি রয়েছে। তবে তাদের দপ্তর ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ করে, মূল্য নির্ধারণ করে না। তিনি শহর ও উলিপুরে দাম সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করেন।
অন্যদিকে কুড়িগ্রাম জেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির আহ্বায়ক আতাউর রহমান হেরিক বলেন, কোম্পানির দেওয়া সীমিত ছাড়ের কারণে কম দামে বিক্রি করলে দোকান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। এজন্য এমআরপি অনুযায়ী বিক্রির আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শেখ সাদী বলেন, এমআরপি সর্বোচ্চ মূল্য, এর বেশি নেওয়া যাবে না তবে কম দামে বিক্রিতে কোনো আইনগত বাধা নেই। কেউ এতে বাধা দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোক্তারা অভিযোগ করে বলেন, একই ওষুধ বিভিন্ন দামে বিক্রি হওয়ায় তারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং কম দামে কিনতে গেলে সমস্যায় পড়ছেন। জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কুড়িগ্রামের ওষুধ বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে এবং ভোক্তাদের ভোগান্তি অব্যাহত থাকবে।

