আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল ব্যুরো:
বরিশালসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি সংকট নিয়ে সৃষ্ট শঙ্কা কাটতে শুরু করেছে। ঈদকে কেন্দ্র করে টানা ছুটি, অতিরিক্ত যাত্রী চাপ ও যানবাহন চলাচল বেড়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল অঞ্চলের ৫টি তেল ডিপোতে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতা—বিশেষ করে মোটরবাইক ব্যবহারকারীদের মধ্যে—কিছুটা বিভ্রান্তি ও চাপ সৃষ্টি করেছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনায় প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের ‘ট্যাগ অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বরিশাল জেলার ২৯টি পাম্পে ২৯ জন কর্মকর্তা সরাসরি তদারকি করছেন জ্বালানির মজুত, বিক্রি ও সরবরাহ ব্যবস্থা। একই সঙ্গে ইউএনও ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকরা সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতও মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সুমন জানান, “জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। ঈদের আগে ও পরে বাড়তি চাপের কারণে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল, তবে এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক।
তিনি আরও জানান, দেশে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা থাকায় এ দুটি জ্বালানির ঘাটতির আশঙ্কা নেই। ডিজেলেও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে প্রশাসনের মতে, অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতা বন্ধ করতে পারলে বাজারে চাপ আরও কমবে। এ ক্ষেত্রে মোটরবাইক চালকদের লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, কৃষি খাতে ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৪ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো চাষে ব্যবহৃত প্রায় ৮৭ হাজার সেচ পাম্পের মধ্যে ৭৫ হাজারই ডিজেলচালিত। এসব পাম্পে প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হচ্ছে।
কৃষিবিদদের মতে, সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে পারলে বোরো উৎপাদনে বড় ধরনের সাফল্য আসবে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১৮ লাখ টন বোরো চাল উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
সার্বিকভাবে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় বরিশালে জ্বালানি সরবরাহ এখন স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।

