আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল ব্যুরো:
সারাদেশের মতো বরিশালেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। দিন দিন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও চিকিৎসা ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে মারাত্মক সংকট। বিশেষ করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে তীব্র শয্যা সংকট রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছে দিয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে হাসপাতালের হাম ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, মূল ভবনের তৃতীয় তলায় দুইটি ইউনিট নিয়ে পরিচালিত এ ওয়ার্ডে রোগীর চাপ ধারণক্ষমতার বহু গুণ বেশি। ৭৮ শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছে ১৯৬ জন শিশু—যা প্রায় তিনগুণ। ফলে একেকটি বেডে দুই থেকে তিনজন শিশুকে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এমনকি অনেক শিশুকে মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
এ অবস্থায় সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্বজনরা। কারণ হাম আক্রান্ত ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত শিশুদের একই বেডে রাখা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক শিশুর স্বজন সালেহ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “আমার সন্তান টাইফয়েড নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। পরে তাকে হাম আক্রান্ত শিশুর সঙ্গে একই বেডে রাখা হয়। কিছুদিনের মধ্যেই সেও হামে আক্রান্ত হয়। আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবাও অনেক ক্ষেত্রে যথাযথভাবে পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে বাধ্য হয়ে অন্যত্র যাওয়ার কথা ভাবছেন তারা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বরিশাল বিভাগে অন্তত ১৩০ জন শিশু হাম আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে শুধু মার্চ মাসেই শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ৮৯ জন। ইতোমধ্যে গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) বরিশালের বানারীপাড়ায় ওমর নামে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর জানান, “সরকারিভাবে হামের টিকা পর্যাপ্ত রয়েছে। সাধারণত ৯ মাস বয়সে এ টিকা দেওয়া হয়, কিন্তু বর্তমানে ৭ মাস বয়সেই শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। বেড সংকট নিরসনে আমরা কাজ করছি।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি দ্রুত হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। একই সঙ্গে শিশুদের টিকা দেওয়ার বয়স ৯ মাসের পরিবর্তে আরও আগে নির্ধারণের বিষয়েও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

