উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ২ নম্বর হারতা ইউনিয়নে ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তালুকদারের বিরুদ্ধে গভীর নলকূপ স্থাপন, ভাতা কার্ড প্রদানসহ বিভিন্ন সরকারি সেবার নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি নিজেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন। অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অভিযোগকারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও গালিগালাজ করেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, গভীর নলকূপ স্থাপন ও ভাতা কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাসে অসহায় মানুষের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও অনেকেই কোনো সেবা পাননি এবং টাকা ফেরতও পাননি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগী রেশমা আক্তার বলেন, ভাতা কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্ড দেওয়া হয়নি, উল্টো টাকা চাইলে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরব আলী, শাহজাহান তালুকদার, সবুর মীর ও খালেক ব্যাপারীসহ একাধিক ব্যক্তি। তাদের দাবি, গত তিন বছর ধরে বিভিন্ন আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।
এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. রহমতুল বারীর কার্যক্রমে বাধা দেওয়া, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠেছে।
সংখ্যালঘু এক পরিবারের কাছ থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে ভুক্তভোগীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযুক্ত মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. রহমতুল বারী জানিয়েছেন, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

