শাহাদাৎ বাবু, নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের এক যুবদল নেতার অফিসে ছাত্রদলের ৮ নেতাকর্মীকে অবরুদ্ধ রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিক বর্বরোচিত নির্যাতন করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অমানবিক নির্যাতনের পর এক পর্যায়ে নির্যাতিতদের গুম করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে।
পরে পুলিশি সহায়তায় গুরুতর অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনা বিরাজমান রয়েছে।
রবিবার দুপুরে সুধারাম মডেল থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত আন্ডারচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে শামু ব্যাপারীর সমাজে এমন ঘটনা ঘটে।

নির্যাতিতরা হলেন, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ’র ছাত্র ও সদর উপজেলা প্রজন্ম দলের যুগ্ম আহবায়ক নূর হোসেন রনি (২৫), আন্ডারচর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজিব, ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ তাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হৃদয় হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য রাকিবুল ইসলাম, ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য মোঃ রাসেল, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য মোঃ ইউছুফ ও ছাত্রদল কর্মী আকরাম হোসেন।
সরেজমিনে গেলে হাসপাতালে চিকিৎসারত আহতরা অভিযোগ করে বলেন, ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্দেশ্যে আমরা ৮জন বাংলাবাজার এলাকায় যাই। সজীব নামে একজন আমাদেরকে শামু ব্যাপারীর সমাজে একটি দোকানে চা খেতে নিয়ে যায়। এসময় স্থানীয় শ্রমিক দলের নেতা সোহেল আমাদেরকে জোরপূর্বক ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক শেখ সেলিমের অফিসে নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। এসময় আমরা ইউনিয়ন ছাত্রদল যুবদল বিএনপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে বিষয়টি অবহিত করি।

খবর পেয়ে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে এসে ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক শেখ সেলিম ও ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি রুহুল আমিন বাহাদুরকে খবর দেন। খবর পেয়ে শেখ সেলিম ঘটনাস্থলে দেরিতে আসলেও রুহুল আমিন বাহাদুর দ্রুত আসেন। আলোচনার এক পর্যায়ে শেখ সেলিম এর অফিস থেকে জাহাঙ্গীরকে বাহিরে ডেকে নিয়ে যান বাহাদুর।
এ সময় হেলমেট ও মুখোশ পরহিত ২৫/৩০ জনের সশস্ত্র একটি দল শেখ সেলিমের অফিসে ঢুকে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে অবরুদ্ধদের তুলে নিয়ে যায় নির্জন স্থানে। নির্জন স্থানে তাদের হাত পা চোখ মুখ বেধে লোহার রড, চাপাতি ও ধারালো অশ্র দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে তাদেরকে। এ সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন দিকে ফোন আলাপ করতে থাকে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে নির্যাতিতদের ঘুম ও হত্যা করতে উদ্বত হয় তারা। খবর পেয়ে পুলিশ রাত প্রায় বারোটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আন্ডারচর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান আহতদের দেওয়া অভিযোগ ও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শেখ সেলিম, রুহুল আমিন বাহাদুর ও সোহেলের কারনে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। শেখ সেলিম ও সোহেল তারা দুজনে সম্পর্কে বেয়াই।
আহতরা আরো অভিযোগ করে বলেন, আন্ডারচর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ সেলিম, মো. সোহেল, রুহুল আমিন ও মামুন মেম্বারের ইন্দনেই এ বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাদের উপর এই হামলা চালানো হয়েছে এবং হত্যার উদ্দেশ্যেই এমন নির্যাতন করা হয়। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি জানিয়েছেন একই সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারপূর্বক কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান অভিযুক্ত মো. সোহেল বলেন, শুনেছি আমাকে খোঁজার উদ্দেশ্য কয়েকজন লোক এসেছে। খবর পেয়ে তাদের কাছে ছুটে যাই এবং বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করি। এর মধ্যে হঠাৎ কয়েকজন লোক অফিসে প্রবেশ করে এবং তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় আমি নিজেও আহত হই। আমি হামলার ঘটনার সাথে জড়িত নই।
অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক শেখ সেলিমের নিকট জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি আমার ব্যক্তিগত নয়, দলীয় অফিস।
এদিকে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি রুহুল আমিন বাহাদুরের নিকট জানতে চাইলে, অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তারা সোহেলকে তুলে নিতে এসেছে। এলাকাবাসী তাদেরকে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছে। আমি অনেক চেষ্টা করেছি তাদেরকে বাঁচানোর জন্য কিন্তু পারিনি।
এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুর রহমান আরও জানান, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করতে সহযোগিতা করে। এ ঘটনায় আহতদের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

